Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফাঁসিদেওয়ায় মানি লন্ডারিং: আবুধাবি, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া যোগ

শুধু দুবাই নয়, শ্রীলঙ্কা, আবুধাবি, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ার মানি লন্ডারিং সিন্ডেকেটের সঙ্গে যোগসূত্র ছিল ফাঁসিদেওয়ার

ফাঁসিদেওয়ায় মানি লন্ডারিং: আবুধাবি, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া যোগ
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: শুধু দুবাই নয়, শ্রীলঙ্কা, আবুধাবি, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ার মানি লন্ডারিং সিন্ডেকেটের সঙ্গে যোগসূত্র ছিল ফাঁসিদেওয়ার। ধৃত মোবাইল মেকার মহম্মদ সইদুলের ডেরা থেকে উদ্ধার সিমকার্ড যাচাই করে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে দার্জিলিং জেলা পুলিস।  শুক্রবার তারা ক্রাইম কনফারেন্সে সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ে আলোচনা করে। সেখানেই পুলিস সুপার প্রবীণ প্রকাশ ঘটনাটি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিস সুপার (কার্শিয়াং) অভিষেক রায়ের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement

এদিকে, পুলিস ধৃত ও তার সাগরেদদের ন’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩২ কোটি টাকা লেনদেনের হিসেব পেয়েছে। সেগুলি সহ প্রায় ৪১৪টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে পুলিস। অধিকাংশ ‘সারোগেটেড’ বা ‘মিউল’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ফাঁসিদেওয়া ব্লকের চটহাট গ্রামের লোকেদের বিভিন্ন ধরনের টোপ দিয়ে ‘সারোগেটেড’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিল ধৃত মোবাইল ফোনের মেকার। সে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি মানি লন্ডারিং সিন্ডিকেটের কাছে ভাড়া দিত। পুলিস তদন্তে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি ঘাঁটাঘাঁটি করে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পেয়েছে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছিল মোবাইল ফোনের ৪৬টি সিমকার্ড। সেগুলি খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে, বেশকিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করা হতো শ্রীলঙ্কা, আবুধাবি, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানি থেকে। সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলি থেকে অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকার লেনদেনও হয়েছে। এনিয়ে পুলিস অফিসারদের সন্দেহ, শুধু দুবাই নয়, ধৃতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা, আবুধাবি, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানির সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। এই যোগাযোগ চলত অনলাইনে। কাজেই ধৃতের নেটওয়ার্ক অনেক লম্বা। 
এদিন ক্রাইম কনফারেন্স করে জেলা পুলিস। দার্জিলিং পাহাড়ে পুলিস সুপারের অফিসে ওই কনফারেন্স হয়। পুলিস সুপার, দু’জন অতিরিক্ত পুলিস সুপার সহ ডিএসপি, এসডিপিও এবং প্রতিটি থানার আইসি ও ওসিরা হাজির ছিলেন। পুলিস সূত্রে খবর, দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা ওই কনফারেন্সে মানি লন্ডারিং সিন্ডিকেট নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। ফাঁসিদেওয়ায় মোবাইল ফোনের দোকানের আড়ালে সারোগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা কাণ্ডের তদন্তের গতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। পরে দার্জিলিংয়ের পুলিস সুপার বলেন, আর্থিক প্রতারণার ওই মামলা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এজন্যই সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। শীঘ্রই ওই টিম গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করবে। 
পুলিস সূত্রের খবর, সিটের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিস সুপার (কার্শিয়াং)। সেই দলে আরও তিন থেকে চারজন এসআই ও এএসআই রয়েছেন। আজ, শনিবার ওই টিম ফাঁসিদেওয়া থানার হাত থেকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তভার গ্রহণ করতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৮মে চটহাটে সাইদুলের ডেরায় হানা দেয় পুলিস। ওই সময় সাইদুল পালিয়ে গেলেও তারা দুই সাগরেদ ধরা পড়ে। কয়েকদিন আগে সাইদুল ও তার এক সাগরেদকে পুলিস গ্রেপ্তার করে।

সম্পর্কিত সংবাদ