Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারি: মহিলাদের অ্যাকাউন্টেও টাকা! নজরে কল্যাণীর দুই লাস্যময়ী

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল দুই লাস্যময়ীর। নদীয়ার কল্যাণীর এই দুই রহস্যময়ীর সঙ্গে কীভাবে প্রভাবশালীদের যোগসূত্র গড়ে উঠেছিল, সেটাই এখন রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারি: মহিলাদের অ্যাকাউন্টেও টাকা! নজরে কল্যাণীর দুই লাস্যময়ী
  • ২৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল দুই লাস্যময়ীর। নদীয়ার কল্যাণীর এই দুই রহস্যময়ীর সঙ্গে কীভাবে প্রভাবশালীদের যোগসূত্র গড়ে উঠেছিল, সেটাই এখন রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই দু’জনকে আটক জেরা করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।  জানা গিয়েছে, দু’জন মহিলার মধ্যে একজনের দু’টি অ্যাকাউন্ট। দু’টিতেই জমা পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল তছরূপের  অর্থ। একটিতে ৭৫ হাজার টাকা। অন্যটিতে এক লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা। আর এক লাস্যময়ীর অ্যাকাউন্টে গিয়েছে চার লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। তাঁদের মধ্যে একজন অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা  তুলে নেয়। সিআইডি যেদিন তাঁর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে, সেই সময় ব্যালেন্স ছিল জিরো।  অন্য মহিলার অ্যাকাউন্টে  পড়েছিল সামান্য ক’টা টাকা। 

Advertisement

সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুই মহিলা কস্মিনকালেও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন না। তাঁদের  ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দু’টিও বর্ধমানের কোনও ব্যাঙ্কের নয়। সেগুলি নদীয়ার কল্যাণীতে। এই দুই মহিলা অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়ে অনেক তথ্যই ফাঁস করতে পারেন। তাঁদের দু’জনের বয়ান তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই কারণেই দু’জনকে আটক করার দাবি উঠছে। 
এদিকে, এতদিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সিআইডি তদন্ত করছিল। এখন ইডিও তদন্তের দায়িত্বভার হাতে তুলে নিয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই  একটি  ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠিয়ে অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জেরার মুখে ওই দুই রহস্যময়ীকেও পড়তে হতে পারে। এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইতিপূর্বেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মী। তিনি এখন জামিনে মুক্ত। ওই কর্মী বলেন, আমার কাজ ছিল ব্যাঙ্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি পৌঁছে দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিকারিকদের নির্দেশে আমার মতো আরও কয়েকজন এই কাজ করেন।  খামের ভিতর কি কাগজ ছিল, সেটা জানতাম না। শুধু ফিক্সড ডিপোজিটের কাগজ পৌঁছে দেওয়ার কারণে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু যেসব রাঘব বোয়ালরা অর্থ তছরূপ করলেন, তাঁরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাঁরা আমাকে নথি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁদের কিছু হল না।
সিআইডি সূত্রে খবর, শুধু ২ কোটি টাকা নয়।  বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও বেশ কয়েকটি মোটা অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা তছরূপ করার ফন্দি এঁটেছিলেন অভিযুক্তরা। কিন্তু ব্যাঙ্কের এক আধিকারিকের জন্যই তাঁদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। সন্দেহ হওয়ায় তিনি নথি দেখে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা কেন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করা হচ্ছে, তা তিনি জানতে চান। তারপরেই চক্রান্তকারীরা বিপাকে পড়েন। অর্থ আত্মসাৎ থেকে পিছু হটেন।
তবে, এখানে একটি প্রশ্ন ভাবাচ্ছে  তদন্তকারীদের। সেটা হল এমন সন্দেহ আগে কেন হয়নি ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের? উত্তর পেতে তাঁদের জেরা করতে পারে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। এখন অবশ্য বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় সরগরম ওই দুই রহস্যময়ী নারীকে নিয়ে। কে তাঁরা? কি তাঁদের পরিচয়? কিভাবে তাঁরা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গেলেন? কে বা কারা তাঁদের ব্যবহার করলেন? এসব জানার জন্য মুখে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী থেকে আধিকারিকরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ