Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কর্মাধ্যক্ষের ঘরেও টাকা-অস্ত্র, পুর চেয়ারম্যানের জমির নীচে আরও টাকার বস্তা, ট্রলি

চার হাজার সরকারি ত্রিপল এবং বাগানবাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া হিসাব বর্হিভূত ৮০ লক্ষ টাকা সমেত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তৃণমূল পরিচালিত বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।

কর্মাধ্যক্ষের ঘরেও টাকা-অস্ত্র, পুর চেয়ারম্যানের জমির নীচে আরও টাকার বস্তা, ট্রলি
  • ২৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: চার হাজার সরকারি ত্রিপল এবং বাগানবাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া হিসাব বর্হিভূত ৮০ লক্ষ টাকা সমেত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তৃণমূল পরিচালিত বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। কীভাবে এল এই বিপুল টাকা, কীসের মাধ্যমে তা অর্জিত, এই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মাঝে বুধবার ফের মিলল ‘কুবেরের ধন’। দীপঙ্করবাবুকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়ির অদূরে বাঁটুলডাঙার এক পাটখেত থেকে মিলল বস্তা বস্তা টাকা। পাটখেতে মাটির নীচে বস্তায় ভরে রাখা হয়েছিল কুবেরের ওই ধন। মোট পাঁচটি বস্তা এবং একটি ট্রলি ব্যাগ ভরতি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। নোট কাউন্টিং মেশিন এনে সেই টাকা গোনা হচ্ছে। ৫০০ ও ২০০ টাকার বান্ডিল বোঝাই বস্তা ও ট্রলি ব্যাগে কয়েক কোটি টাকা রয়েছে বলে তদন্তকারীরা বলছেন। সূত্রের খবর, তা কোনোভাবেই চার কোটি টাকার কম নয়। তবে শুধু টাকা উদ্ধারের সেই হয়নি কুবেরের ধন। মিলেছে প্রচুর সোনার গয়না ও বাট। তার মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। পাটখেত থেকে পুর চেয়ারম্যানের ‘গুপ্তধন’ উদ্ধারপর্ব প্রত্যক্ষ করতে এদিন ভিড় জমিয়েছিলেন কয়েকশো মানুষ। মাটির নীচ থেকে টাকা বোঝাই যে বস্তাগুলি উদ্ধার হয়েছে, তা বহন করতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশ কর্মীদের। তদন্তকারীদের বক্তব্য, তোলাবাজি ছাড়াও কোনো সংগঠিত চোরাকারবার এবং হাওলা চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে চেয়ারম্যান এই অর্থ মজুত করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশদ জানতে চেয়ারম্যানকে দফায় দফায় জেরা করছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

অপরদিকে, ভোট পরবর্তী হিংসা, তোলাবাজি, জমি দখল সহ একাধিক অভিযোগে বুধবার গোবরডাঙা এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহা ও তাঁর ভাই সুজিত সাহাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে মছলন্দপুরের সাতপুর এলাকায় অজিতবাবুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে নগদ ২৭ লক্ষেরও বেশি টাকা, ৬৬০ রাউন্ড কার্তুজ, ৬১টি গুলির খোল, একটি এয়ারগান, একটি স্পোর্টস  রাইফেল, তিনটি ছররা, ৫২ বোতল বিদেশি মদ এবং ১৪২টি বিভিন্ন ধরনের চাবি। ধৃত দুই ভাইকে বুধবার আদালতে হাজি করা হলে, বিচারক তাঁদের সাতদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহার দাবি, এয়ারগান ও স্পোর্টস রাইফেলের লাইসেন্স রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অর্থ পুরোটাই ব্যাংক থেকে তোলা ব্যবসার বৈধ অর্থ। অপরদিকে তোলাবাজি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগে ওই একইদিনে দত্তপুকুর কাশেমপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান মেঘনাদ দাস, উপপ্রধানের স্বামী তথা কলকাতা পুলিশ কর্মী গোপাল কাঞ্জিলাল, তাঁর ছেলে সম্বিৎ কাঞ্জিলাল সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাঁদের সবাইকে পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ধৃতদের দাবি, তাঁরা রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ