অলোক মুখার্জি: গত কয়েকদিন ধরেই খবরের কাগজে রবসন রবিনহোকে নিয়ে অনেক লেখা পড়েছিলাম। তবে মঙ্গলবার মোহন বাগানের প্রথম একাদশে তার নাম না দেখে অবাক হই। যাই হোক, দ্বিতীয়ার্ধে সে খেলল ঠিকই। তবে ওর পারফরম্যান্সে আমি খুব হতাশ। একজন পেশাদার ফুটবলারের শরীরে কীভাবে এতটা মেদ থাকতে পারে? মনে আছে, অমলদা (দত্ত)-পিকে ব্যানার্জির আমলে কোনও ফুটবলারের শরীরে সামান্য মেদ থাকলেও প্রথম একাদশে জায়গা পেত না। তাই অফ সিজনেও নিজেকে ফিট রাখার জন্য আমি, কৃশানু রেস কোর্সের মাঠে দৌড়াতাম।
মঙ্গলবার গোটা মোহন বাগান দলের ফিটনেসের ঘাটতি চোখে পড়ল। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই সীমিত শক্তির নিয়েই জিতল আহল এফকে। গোটা ম্যাচেই কার্যত গতিতে মোহন বাগানকে টেক্কা দিল তুর্কমেনিস্তানের দলটি। কোচ হোসে মোলিনাও এই হারের দায় এড়াতে পারেন না। শুনলাম, ম্যাচের পর নাকি ‘গো ব্যাক’ শুনতে হয়েছে স্প্যানিশ কোচকে। অথচ গত মরশুমে তাঁর হাত ধরেই আইএসএল লিগ-শিল্ড ও কাপ জিতেছিল মোহন বাগান সুপার জায়ান্ট। আর নতুন মরশুমের শুরুতেই সমর্থকদের রোষের মুখে পড়তে হল তাঁকে। এটা কলকাতা ময়দান। এখানে ভালো ফল করতে অনুরাগীরা মাথায় তুলে নাচবে। আর ব্যর্থ হলেই ছুড়ে ফেলে দেবে। তাই মোলিনাকে বুঝতে হবে, মোহন বাগান কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জায়গা নয়। হাতে বিকল্প থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি পেত্রাতোসকে নামালেন না? কেন তিনি তিন বিদেশিতে প্রথম একাদশ সাজালেন? টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত, এই প্রশ্নগুলির জবাব চাওয়া।
গতবার মোহন বাগানের সাফল্যের অন্যতম কারণ ছিল মাঝমাঠে গ্রেগ স্টুয়ার্টের উপস্থিতি। অথচ নতুন মরশমে স্কটিশ মিডিওকে ছেড়ে দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। তাঁর পরিবর্তে রবসনকে দলে নেওয়া হল। আদৌ কি এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের খুব একটা দরকার ছিল? তাঁর পরিবর্তে একজন ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার সই করালে অনেক বেশি উপকৃত হতো মোলিনা ব্রিগেড। ডুরান্ড কাপের আসরেই মাঝমাঠের দুর্বলতা চোখে পড়েছিল। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু’র লড়াইয়ের আগেও তা শোধরানোর উদ্যোগ নেননি কোচ মোলিনা। ফলে যা হওয়ার তাই হল। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরানের ক্লাব সেপাহানের মুখোমুখি হবে মোহন বাগান। তার আগে দ্রুত ফিটনেসের সমস্যা মেটাতে হবে কোচ মোলিনাকে। না হলে আরও লজ্জা অপেক্ষা করছে।