সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: মোহন বাগান কোচের পদে কলকাতার বাইরে প্রথম ডার্বি। তারউপর গত ম্যাচে ডেম্পোর মতো দুর্বল দলের ড্র। স্বাভাবিকভাবেই মর্যাদার লড়াইয়ের ২৪ ঘণ্টা আগে চাপ ভালোই টের পাচ্ছেন হোসে মোলিনা। তাই তো বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে মাইক্রোফোনে সমস্যার দায়ও নিজের কাঁধে তুলে নিলেন স্প্যানিশ কোচ। কিছুটা মজার ছলে হলেও মোলিনার কথাতেই স্পষ্ট, শুক্রবার ডার্বিতে খারাপ ফল মানেই ফের সমর্থকদের ক্ষোভে মুখে পড়তে হবে। তাই সুপার কাপের বড় ম্যাচ জিতে অনুরাগীদের মুখে হাসি ফোটাতে চান মোলিনা। বললেন, ‘কলকাতায় পা রাখার পর থেকেই বড় ম্যাচে সমর্থকরা সবসময় পাশে থেকেছে। এবার হয়তো গ্যালারির সেই সমর্থন থাকবে না। তবে আমাদের লক্ষ্য, ম্যাচ জিতে সমর্থকদের উপহার দেওয়া।’
মাত্র দু’সপ্তাহ আগেই আইএফএ শিল্ড ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে খেতাব ঘরে তোলে পালতোলা নৌকা। সুপার কাপের আসরেও সেই ছন্দ বজায় রাখাই লক্ষ্যেই গোয়ায় পা রেখেছিলেন লিস্টন-ম্যাকলারেনরা। প্রথম ম্যাচে চেন্নাইয়ানকে হারালেও, ডেম্পোর বিরুদ্ধে পয়েন্ট খুইয়ে শেষ চারের পথ কঠিন করেছে মোলিনা ব্রিগেড। পরিস্থিতি যা, শুক্রবার মোহন বাগানকে জিততেই হবে। মোলিনা অবশ্য এই নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। বললেন, ‘ইস্ট বেঙ্গলের জন্য এটা সুবিধা হতে পারে। তবে আমাদের কোনও সমস্যা নয়। কারণ, যে কোনও ম্যাচ আমরা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামি। ডার্বিতে কোনও পার্থক্য থাকে না। এই ম্যাচ সবসময় স্পেশাল। ফুটবলাররা সেই মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবে।’
চলতি মরশুমের শুরু থেকেই মোহন বাগানের ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত দলের তিন বিদেশি দিমিত্রি, জেসন কামিংস ও রবসন একেবারেই ছন্দে নেই। বাগান কোচ অবশ্য ফুটবলারদের আড়াল করে পর্যাপ্ত ম্যাচ না খেলাকেই দায়ী করছেন। তাঁর সংযোজন, ‘গত তিন মাসে আমরা হাতে গোনা ম্যাচ খেলেছি। শুধুই অনুশীলন করে সেরা ছন্দে ফেরা অসম্ভব। তবে ছেলেরা চেষ্টা করছে।’
দু’দিন অন্তর ম্যাচ খেলতে হচ্ছে সুপার কাপে। তাই হার্ড ট্রেনিং নয়, বৃহস্পতিবার ডার্বির শেষ মহড়ায় ফাইন টিউনিংই ছিল মোলিনার লক্ষ্য। এদিন মূলত পাসিং ফুটবলের পাশাপাশি ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে শ্যুটিংয়ে জোর দিলেন তিনি। এবারের ইস্ট বেঙ্গল অনেক বেশি পরিণত। তবে উইং-ব্যাকে সমস্যা রয়েছে। শুক্রবার সেটাই কাজে লাগাতে চাইবেন লিস্টন-রবসনরা।
মোহন বাগানের সম্ভাব্য একাদশ: বিশাল, শুভাশিস, টম, আলবার্তো, মেহতাব, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ, কামিংস, রবসন, লিস্টন ও ম্যাকলারেন।