Bartaman Logo
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাইপাসের পাঁচতারা হোটেলে শ্লীলতাহানি, রাতভর হাতাহাতি দু’দলের

বাইপাসের ধারে পাঁচতারা হোটেল। সেখানকার নাইট ক্লাবে রাতভর আনাগোনা চলে অভিজাত তরুণ-তরুণীদের। উইক-এন্ডে অর্থাৎ শনি-রবিবার স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের ভিড় বেশি হয়।

বাইপাসের পাঁচতারা হোটেলে শ্লীলতাহানি, রাতভর হাতাহাতি দু’দলের
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাইপাসের ধারে পাঁচতারা হোটেল। সেখানকার নাইট ক্লাবে রাতভর আনাগোনা চলে অভিজাত তরুণ-তরুণীদের। উইক-এন্ডে অর্থাৎ শনি-রবিবার স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের ভিড় বেশি হয়। এই শনিবার রাতেও এর কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু এবার সেখানেই এক তরুণীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল একদল মদ্যপ যুবকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, রাতভর হোটেলে চলে অভিযুক্ত মদ্যপদের তাণ্ডব। দু’দলের বচসা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে হোটেল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয় পুলিশ ডাকতে। তারা এসে তরুণীকে ওই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে। কিন্তু পুলিশ আসতে দেখে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে রবিবার সকালে প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের নাম মহম্মদ রফি আজিম। বেনিয়াপুকুর এলাকায় তাঁর বাড়ি ও ব্যবসা রয়েছে। সেখানে হানা দিয়েই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি দুই অভিযুক্ত এখনও পলাতক।  

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী তরুণী বেহালার বাসিন্দা। শহরের বিভিন্ন অভিজাত হোটেলের নাইট ক্লাবে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। সেভাবেই শনিবার রাতে কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবীকে নিয়ে তিনি বাইপাসের ধারের ওই হোটেলে আসেন। তদন্তে পুলিশ জেনেছে, তাঁর সঙ্গে চার বান্ধবী ও কয়েকজন বন্ধু হোটেলের নাইট ক্লাবে ছিলেন। তাঁরা একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করছিলেন। তাঁদের পাশের টেবিলে বসেছিলেন অভিযুক্ত রফি ও তাঁর সঙ্গীরা। তাঁরা মদ্যপান করতে করতে মাঝেমাঝে চিৎকার-চেঁচামেচিও করছিলেন। পাশের টেবিলে বসে থাকা তরুণীদের লক্ষ্য করে অশ্লীল মন্তব্য এবং অশালীন ইঙ্গিত করছিলেন বলেও অভিযোগ। এর প্রতিবাদ করেন ওই তরুণী ও তাঁর সঙ্গীরা। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মদ্যপ যুবকদের দল। দীর্ঘক্ষণ দু’পক্ষের কথা কাটাকাটি চলে। অভিযোগ, এক সময় নাইট ক্লাবের ভিতরে থাকা চেয়ার-টেবিল তুলে আছাড় মারতে থাকেন রফি ও তাঁর সঙ্গীরা। রাত ১টা থেকে ২.৩০টা পর্যন্ত এভাবে তাণ্ডব চলে। আরও অভিযোগ, মদের বোতল নিয়ে ওই যুবকরা মেয়েদের টেবিলের দিকে চলে আসছিলেন বারবার। ধৃত রফি মদ্যপ অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর গায়ের উপর পড়ে যান  বলে তরুণীর অভিযোগ। এরপর বিবাদ চরমে ওঠে। দু’পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন নাইট ক্লাবের বাউন্সাররা। তরুণীর দাবি, বাউন্সাররা সাহায্য করার বদলে অভিযুক্তদের হয়ে কথা বলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত হোটেল কর্তৃপক্ষ রাত ২.৩০টা নাগাদ প্রগতি ময়দান থানায় ফোন করে। পুলিশ দেখে চম্পট দেন রফি ও তাঁর সঙ্গীরা। তরুণী শ্লীলতাহানি, মারধরের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সেখান থেকেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত রফির বাড়ি বেনিয়াপুকুর এলাকায়। সকালে সেখানে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ