নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীত পড়েছে। মিষ্টির দোকানে উঁকি দিচ্ছে নতুন গুড়ের, নানা মাপের, নানা রূপের সন্দেশ। ছানা জ্বাল দিয়ে বিশাল বড় কাঠের থালায় মেখে ছাঁচে ফেললে তবে তৈরি হয় অপূর্ব দেখতে সব সন্দেশ। সেই যে মিষ্টির ছাঁচ তা তৈরি হয় এই শহর কলকাতাতেই। রবীন্দ্র সরণিতে লাইন দিয়ে এরকম বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে। ছোট, পুরনো সব দোকান। সেখানে মোটা ফ্রেমের চশমা চোখে এক মনে কাজ করেন শিল্পীরা। সেগুন কাঠের ছোট্ট ছাঁচ। সেগুলিতে ফেলে তৈরি হয় সন্দেশের মুখশ্রী। সুস্বাদু সন্দেশ দেখতে হয়ে ওঠে সুদর্শন। রবীন্দ্র সরণির দোকানগুলিতে এককালে কাঠের ছাঁচই তৈরি হতো শুধু। এখন কিছু জায়গায় কাঠের বদলে তৈরি হয় ফাইবারের ছাঁচ। তবে সেগুলি কাঠের বিকল্প কোনওভাবেই নয়। নামকরা কুলীন মিষ্টির দোকানগুলির এখনও প্রথম পছন্দ কাঠ দিয়ে তৈরি ছাঁচ। শীতের দুপুরে রোদ এসে পড়ে পুরনো দোকানগুলির কালচে দেওয়ালে। সে রোদ ছায়া আঁকে। ছায়াটি সেই শিল্পীর, যিনি হাতে কাঠ কাটার যন্ত্র নিয়ে একমনে কাজ করে চলেছেন। তাঁর নাম, ভোলানাথ দাস। কিছুক্ষণ আগেই বাটালি দিয়ে কাঠের চাকতির উপর ফুল এঁকেছেন তিনি। লিখেছেন, ‘শুভ উপনয়ন’। এবার চাকতিটি সমান আকারে গোল করার পালা। সে কাজ শেষ হওয়ার পর চোখ তুলে তাকালেন। বললেন, ‘আমি ছ’বছর বয়সে কাজ শিখতে শুরু করি। প্রায় ৫০ বছর হয়ে গেল ছাঁচ তৈরি করছি। সাধারণত সেগুন কাঠ দিয়েই তৈরি হয় মিষ্টির ছাঁচ।’ একটি ছাঁচ কতদিন ব্যবহার করা যায়? ভোলানাথের কথায়, ‘ছাঁচের উপর ছাপ কতদিন স্পষ্ট থাকে তার উপর বিষয়টি নির্ভর করে। যতদিন নকশা স্পষ্ট থাকবে, ততদিনই আয়ু।’



