Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

প্রয়াত আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মতো পুত্র মোজতবার নিরাপত্তায়ও ‘নোপো’ বাহিনী

কালো ইউনিফর্ম। হাতে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের নিরাপত্তায় ‘নোপো’ কমান্ডো নিয়োগ করা হয়েছে বলে খবর।

প্রয়াত আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মতো পুত্র মোজতবার নিরাপত্তায়ও ‘নোপো’ বাহিনী
  • ১২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: কালো ইউনিফর্ম। হাতে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের নিরাপত্তায় ‘নোপো’ কমান্ডো নিয়োগ করা হয়েছে বলে খবর। সন্ত্রাসদমনে সিদ্ধহস্ত এই বিশেষ এলিট বাহিনী আইআরজিসি-র থেকেও বেশি ধুরন্ধর। মোজতবার বাবা প্রয়াত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় আইআরজিসি নয়, বরং এই ‘নোপো’ বাহিনীর উপরই আস্থা রাখতেন।

Advertisement

২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইরানের আকস্মিক যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেইকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে বেছে নিয়েছে তেহরান। ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই এয়ার স্ট্রাইকে বাবা আয়াতোল্লার পাশাপাশি মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হারাতে হয়েছে মোজতবাকে। ইরানি টেলিভিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই দিনের মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় জখম হয়েছেন নবনির্বাচিত এই নেতাও। যদিও সেই রিপোর্ট খারিজ করে দিয়েছে ইরান। প্রশাসনের তরফে বলা হচ্ছে, মোজতবা নিরাপদেই রয়েছেন। তিনি পুরোপুরি সুস্থ। তবে এরই মধ্যে ইরানি প্রেসিডেন্টের পুত্র ইউসুফ পেজেশকিয়ান নিজের ইনস্টাগ্রাম চ্যানেলে দাবি করেছেন, ঘনিষ্ঠ মহল থেকে তিনি মোজতবা খামেনেইয়ের জখম হওয়ার কথা জানতে পেরেছেন। তবে ‘উপরওয়ালার কৃপা’য় বর্তমানে তিনি নিরাপদেই রয়েছেন।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখনো প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি আসেনি মোজতবা খামেনেইয়ের। ফলে তাঁর জখম হওয়ার জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। তবে তারই মধ্যে জানা যাচ্ছে, বাবার মতো মোজতবার নিরাপত্তার ভারও ‘নোপো’ বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ফক্স নিউজের রিপোর্টে এই দাবি করা হয়েছে। সেখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে প্যারিসের সংগঠন এনসিআরআই-এর বৈদেশিক বিষয়ক কমিটির আধিকারিক আলি সাফাভিকে। তিনি বলেছেন, আলি খমেনেইয়ের মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনেইয়ের নিরাপত্তাও ‘নোপো’ বাহিনী দেখভাল করছে বলেই মনে হচ্ছে।
১০৯১ সালে গঠন করা হয়েছিল ‘নোপো’ বাহিনী। স্পেশ্যাল ইউনিটস কমান্ডের অধীনে কাজ করে ইরানের এই এলিট রায়ট পুলিশ। সর্বোচ্চ প্রশিক্ষিত এই বাহিনীকে সাধারণত পণবন্দিদের মুক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে একইসঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও আন্দোলনকে নির্মমভাবে অবদমিত করার ক্ষেত্রেও এই বাহিনীর জুড়ি মেলা ভার। ১৯৯৯ সালের ছাত্র আন্দোলন, ২০১৯ সালের অস্থিরতা ও হালফিলের মাশা আমেনি আন্দোলন ধামাচাপা দিতেও ‘নোপো’ কমান্ডোদের রাস্তায় নামানো হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। ফক্স নিউজকে আলি সাফাভি বলেছেন, ফার্সি ভাষায় ‘নিরৌয়েহ ভিজেহ পাসদারান ভেলায়ত’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল ‘নোপো’। এর অর্থ, সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তায় নিযুক্ত বিশেষ বাহিনী। তবে ‘ভেলায়ত’-এর অর্থ শুধুমাত্র ‘সর্বোচ্চ নেতা’র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৃহত্তর অর্থে এটি পুরো শাসনব্যবস্থাকেই বোঝায়। 
‘নোপো’র মোট ছ’টি ব্রিগেড রয়েছে। তার মধ্যে চারটি রয়েছে তেহরানে। একটি করে ব্রিগেড মোতায়েন রয়েছে মাশাদ ও ইসফাহানে। সেনার আইআরজিসি-র থেকেও বেশি প্রশিক্ষিত, নির্দয় ও মারণ-বাহিনী এই ‘নোপো’। -ফাইল চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ