সংবাদদাতা, বর্ধমান: ক্ষমতায় এলে বর্ধমানে অ্যাকাডেমি খোলার চেষ্টা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন মোহনবাগানের সচিব পদপ্রার্থী সৃঞ্জয় বসু। পাশাপাশি যাঁরা ৫০ বছর ধরে ক্লাবের সদস্য রয়েছেন, নতুন নিয়ম চালু করে তাঁদের বার্ষিক চাঁদা মকুব করা হবে। প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সদস্যপদ দেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সদস্যদের অবর্তমানে ফি দিয়ে কার্ড ট্রান্সফার করার ব্যবস্থা চালু করা হবে। ক্লাব সদস্য ও সমর্থকদের যাতে ম্যাচের টিকিট পেতে সমস্যা না হয়, সেব্যাপারেও পরিকল্পনা তৈরির ভাবনাচিন্তা করবে নতুন কমিটি। শনিবার বর্ধমান শহরের বীরহাটা এলাকায় একটি হোটেলের সভাকক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় এমনই আশ্বাস দেন সৃঞ্জয়বাবু।
ওইদিন নির্বাচনী সভায় প্রচুর ক্লাব সদস্য ও সমর্থক হাজির ছিলেন। সভার শুরুতেই পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মৃতিতে নিরবতা পালন করা হয়। ক্লাব সদস্য সত্যজিৎ দত্ত, সুশান্ত ঘোষ, সৃঞ্জয়, শতবর্ষের অধিনায়ক শিশির ঘোষ ও আইলিগ জয়ী দলের অধিনায়ক শিল্টন পালকে বরণ করে নেন। মোহনবাগান ক্লাবে টুটু বসুর অবদান তুলে ধরে সদস্যদের মন জয় করার চেষ্টা করেন বক্তারা।
ক্লাবের দীর্ঘদিনের সদস্য তথা প্রাক্তন বিধায়ক উজ্জ্বল প্রামাণিক বলেন, মোহনবাগানকে নিয়ে আমাদের আলাদা আবেগ রয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৫ গোল খাওয়ার পর রাতে ঘুমোতে পারিনি। ইস্টবেঙ্গলকে হারাতে টুটু বসু ক্লাবের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে বিদেশি খেলোয়াড় দলে নিয়েছিলেন। তাঁর জন্যই মোহনবাগানের সাফল্য আসে।
শিশির বলেন, ক্লাবের জন্য টুটুদা কী করেছেন, তা সদস্যরা জানেন। টুটু দা–ই প্রথম বিদেশি খেলোয়াড়কে সই করিয়েছিলেন। সৃঞ্জয়ও ক্লাবের জন্য অনেক কিছু করেছেন। সৃঞ্জয়কে ভোট দিয়ে জেতান। ক্লাবের উন্নতি হবে।
ক্লাবের কর্মসমিতির প্রাক্তন সদস্য সিদ্ধার্থ রায় বলেন, টুটু দা চোখে চোখ রেখে লড়াই করা শিখিয়েছেন। তিনি দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্লাবকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আর সৃঞ্জয় ক্লাবে ঐতিহাসিক ক্যান্টিন তৈরি করেছেন। সদস্যদের বলব, আপনারা সৃঞ্জয়কে ভোট দিন।
শিল্টন বলেন, একটা সময় জরিমানা দিয়ে মোহনবাগানের অবনমন আটকে ছিলেন টুটু দা। ময়দানে এখন ভালো লোকের অভাব। তাই সৃঞ্জয়ের মতো মানুষকে ক্লাবের দরকার। সব শেষে সৃঞ্জয়বাবু বলেন, দুর্গাপুরে ক্লাবের অ্যাকাডেমি ছিল। সেখান থেকে বহু ভালো খেলোয়াড় উঠে এসেছে। সেই সময় সেইল এগিয়ে এসেছিল। এখন অ্যাকাডেমি বন্ধ। সেইল–এর মতো কেউ এগিয়ে এলে বর্ধমানে অ্যাকাডেমি খোলা সম্ভব হবে। অভিযোগ জানানোর জন্য মোবাইল নম্বর চালু করা হবে। মোবাইলে ফোন করেও সদস্যরা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। বহু প্রাক্তন খেলোয়াড় সদস্যপদ নিতে চান। তাঁদের সাম্মানিক সদস্যপদ দেওয়ার ব্যাপারেও ভাবনাচিন্তা করা হবে। সভার শেষ দিকে ক্লাবের আইলিগ জয়ের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে কেক কাটা হয়।-নিজস্ব চিত্র