Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

আইএসএল ফাইনালে মোহন বাগান

দ্বিতীয়ার্ধের সংযোজিত সময় চলছে। ম্যাচের ফল তখনও ১-১। নিজেদের বক্সের বাইরে ভুল পাস জামশেদপুরের প্রণয় হালদারের।

আইএসএল ফাইনালে মোহন বাগান
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ১৫:০৪
Prefer us on Google

শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: দ্বিতীয়ার্ধের সংযোজিত সময় চলছে। ম্যাচের ফল তখনও ১-১। নিজেদের বক্সের বাইরে ভুল পাস জামশেদপুরের প্রণয় হালদারের। তা ধরে অনিরুদ্ধ থাপা বল বাড়ালেন আপুইয়াকে। বক্সের বাইরে থেকে ঝলসে উঠল তাঁর ডান পা। কিচ্ছুটি করার ছিল না গোলরক্ষক আলবিনো গোমসের। চোখের পলক ফেলার আগে বল আছড়ে পড়ল জালে (২-০)। সোমবার মিজো ফুটবলারের দুরন্ত গোলেই সোনা ফলাল মোহন বাগান। তিনিই ম্যাচের সেরা। গ্যালারিতে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার পাশে বসে খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠলেন ঋষভ পন্থ। সবুজ আবির এবং হাঁটু কাঁপানো গর্জনে তখন বিধ্বস্ত জামশেদপুর। যুবভারতীতে ফিরতি সেমি-ফাইনালে খালিদ ব্রিগেডকে হারিয়ে আইএসএল ফাইনালে মোহন বাগান। শনিবার এই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেই সুনীল ছেত্রীদের বশ মানিয়ে ডাবল করার সুযোগ মোলিনা ব্রিগেডের সামনে। 
প্রথম পর্বের সেমি-ফাইনালে ২-১ গোলে জেতে জামশেদপুর। মোহন বাগানের প্রত্যাবর্তনের জন্য দ্রুত গোল প্রয়োজন ছিল। ঘরের মাঠে পছন্দের ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজান হোসে মোলিনা। চোট কাটিয়ে আপুইয়া ফিরলেও মনবীরকে শুরুতে পাওয়া যায়নি। তাই আশিক কুরুনিয়ানকে বাঁ প্রান্তে খেলিয়ে লিস্টনকে ডানদিকে ব্যবহার করা হয়। তবে প্রথমার্ধে খালিদের রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। সিঙ্গল স্ট্রাইকার জর্ডন মারেকে সামনে রেখে গোটা দলকেই রক্ষণে নামিয়ে আনেন তিনি। আলবার্তো, শুভাশিসরা মাঠমাঠ পর্যন্ত বিনা বাধায় উঠলেও ডিফেন্সের দেওয়ালে বারবার ধাক্কা খেলেন। এদিন পরিকল্পিত স্ট্র্যাটেজিতে লিস্টন ও আশিকের কাট বন্ধ করে দেন খালিদ। বড় চেহারার উইং ব্যাক মহম্মদ উভেসকে দিয়ে লিস্টনকে মার্ক করাও সিদ্ধান্তও অনেকটা সফল। জামশেদপুরের ক্লোজ মার্কিং আর চোরাগোপ্তা ফাউলের স্ট্র্যাটেজিতে হাঁসফাঁস করলেন কামিংসরা। খালিদ তো তাই চেয়েছিলেন। ম্যাকলারেনও নিষ্প্রভ। নড়াচড়া অত্যন্ত শ্লথ। যাই হোক, ম্যাচের ১৫ মিনিটে বক্সের গোড়ায় সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েছিলেন কামিংস। অজি ফুটবলার ফেভারিট ফুটে বল পেয়েও বাইরে মারলেন। এর তিন মিনিট পরেই লক্ষ্যভেদের সুযোগ চলে আসে আলবার্তোর সামনে। এক্ষেত্রে  কর্নার থেকে ছিটকে আসা বলে তাঁর সাইডভলি গোললাইন থেকে ফেরান সৌরভ দাস। বিরতির আগে কামিংসদের দুর্বল পুশও রুখে দেন আলবিনো। গোটা ম্যাচে তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্স মূল্যহীন হয়ে পড়ল প্রণয় হালদারের জন্য। 
৯০ মিনিট ডিফেন্স করে ম্যাচ বাঁচানো মুশকিল। যুবভারতীর বড় মাঠে তা আরও কঠিন। বিরতির পর তা টের পেলেন খালিদ। ৪৯ মিনিটে লিস্টনের কর্নার প্রণয়ের হাতে লাগলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি তেজস নাগবেঙ্কর। ঠান্ডা মাথায় স্পটকিক কাজে লাগাতে ভুল করেননি কামিংস (১-০)। এরপর ৫৯ মিনিটে লিস্টনের সেন্টার থেকে ম্যাকলারেনের হেড দুরন্ত সেভ করেন আলবিনো। শেষ ১৫ মিনিট যথাক্রমে মনবীর ও পেত্রাতোসকে নামিয়ে অল-আউট আক্রমণে গেলেন মোলিনা। তাঁর হাতে বিকল্প প্রচুর। একজন বিদেশি ডিফেন্ডার বসিয়ে আপফ্রন্টে স্টুয়ার্টকে জুড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াই যেত। আপুইয়ার ম্যাজিক গোল সেই প্রশ্ন ঢেকে দিল।
মোহন বাগান: বিশাল, আশিস, আলড্রেড, আলবার্তো, শুভাশিস, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপা, লিস্টন, কামিংস (পেত্রাতোস), আশিক (মনবীর) ও ম্যাকলারেন।

Advertisement

 

মোহন বাগান-২            :          জামশেদপুর-০
(কামিংস, আপুইয়া)
* দু’লেগ মিলিয়ে ৩-২ জয়ী মোহন বাগান

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ