Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

কোচের ভুলে ডেম্পোকে হারাতে ব্যর্থ মোহন বাগান

এই লজ্জা কোথায় লুকোবেন কোচ হোসে মোলিনা? তাছাড়া পরের ম্যাচই ডার্বি।

কোচের ভুলে ডেম্পোকে হারাতে ব্যর্থ মোহন বাগান
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৯:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডেম্পোর গোটা টিমের বাজেট জেমি ম্যাকলারেনের বেতনের থেকে কম! মঙ্গলবার সুপার কাপে গোয়ার বিদেশিহীন এই ক্লাবের কাছেই আটকাল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড! এই লজ্জা কোথায় লুকোবেন কোচ হোসে মোলিনা? তাছাড়া পরের ম্যাচই ডার্বি। না জিতলে সুপার কাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত। তাই এই মুহূর্তে প্রেশার কুকারের মধ্যে পালতোলা নৌকা। 
এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের সিংহভাগ দায় কোচ হোসে মোলিনার। প্রথম ম্যাচ জেতার পরও প্রথম একাদশে আটটি পরিবর্তন কেন? স্প্যানিশ হেডস্যারের কাছে জবাব চাওয়া উচিত ম্যানেজমেন্টের। কোচের এই সিদ্ধান্তই ব্যুমেরাং হল। ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাবেই কাটল ছন্দ। তাছাড়া ফাতোরদার কাদা মাঠে ফিটনেসের অভাবও প্রকট। রবসনকে দেখে মনে হল, অফিস থেকে ফিরে পাড়ার মাঠে ফুটবল খেলছেন। আরেক তারকা দিমি পেত্রাতোস শুধু খেলব খেলব বায়না করেন। কিন্তু খেলতে নামলে তিনি বিগ জিরো। সমর্থকদের একাংশ বলছেন, ‘ভাগ্যিস টিমটা এসিএল-টু’তে খেলতে যায়নি!’ তবে প্রশংসা করতে হবে ডেম্পোর। সীমিত শক্তি নিয়েও উজ্জীবিত ফুটবল মেলে ধরল সমীর নায়েকের ছেলেরা। গ্যালারিতে বসে যা দেখলেন জাতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল ও সহকারী মহেশ গাউলি।
অতীত সাক্ষী, মোহন বাগান-ডেম্পো ম্যাচ মানেই হাই-ভোল্টেজ লড়াই। ১৯৮৬ রোভার্স কাপের ফাইনাল। মোহন বাগানকে ২-০ হারিয়েছিল ডেম্পো। ২০০৪ ফেডারেশন কাপের ফাইনালেও একই রেজাল্ট। ২০০৮ ফেডারেশন কাপের খেতাবি লড়াইয়ে আবার ডেম্পোকে হারায় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। অবশ্য এখন গোয়ার ক্লাবটি কোনওরকমে টিকে রয়েছে। তবে মঙ্গলবার এই বিদেশিহীন ডেম্পোই মোহন বাগানের নাভিশ্বাস তুলে প্রমাণ করল, ‘লড়াইটা ভুলিনি’। উল্লেখ্য, গত ম্যাচের বিশাল কাইথ, টম আলড্রেড ও সাহাল আব্দুল সামাদ ছাড়া পুরো প্রথম একাদশই বদলে দেন বাগান কোচ মোলিনা। আক্রমণভাগে কামিংসের সঙ্গে উইথড্রনে দিমিত্রিকে রেখে ৪-৪-২ ফর্মে দল সাজান স্প্যানিশ কোচ। কিন্তু প্রথমার্ধে রীতিমতো ঘুমপাড়ানি ফুটবল খেলল ভারতসেরা মোহন বাগান। কম্বিনেশন ভেঙে দেওয়ায় প্লেয়ারদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব প্রকট। ২৫ মিনিটে বিপক্ষ গোলে প্রথম শট নিতে পারে মোহন বাগান। বাঁ দিক থেকে কামিংসের শট ঠেকিয়ে দেন ডেম্পোর গোলরক্ষক। তবে ৩৬ মিনিটে গোল পেতে পারত মোলিনা-ব্রিগেড। কিন্তু ডানদিক থেকে রবসনের ভাসানো ক্রসে আশিস রাইয়ের হেড বিপক্ষ গোলরক্ষক সিবির হাতে জমা পড়ে। উল্টোদিকে, রক্ষণ জমাট রেখে প্রতি-আক্রমণের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন ডেম্পোর কোচ সমীর নায়েক। ৪১ মিনিটে বাগান রক্ষণে ভয়ও ধরিয়ে দিয়েছিলেন শুভম। তবে বিশাল এগিয়ে বিপন্মুক্ত করেন।
অবস্থা বেগতিক দেখে দ্বিতীয়ার্ধে আলবার্তো, মেহতাব, ম্যাকলারেন, আপুইয়া, মনবীরদের মাঠে নামান। এই পর্বে মোহন বাগানের আক্রমণে ঝাঁঝ বেড়েছিল। তবে ডেম্পোর জমাট রক্ষণের দৌলতে বক্সের সামনেই খেই হারাচ্ছিল আক্রমণ। ৬৯ মিনিটে সাহালের থেকে বল পেয়ে আশিস বাড়ান ম্যাকলারেনকে। তবে অজি অ্যাটাকারের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৭৩ মিনিটে মনবীরের হেড আবার পোস্টে লাগে। শেষদিকে ডেম্পোও গোল পেতে পারত। কিন্তু কপিল হোবলের প্রয়াস রুখে দেন গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। 
মোহন বাগান: কাইথ, আশিস, আলড্রেড (আলবার্তো), দীপ্যেন্দু (মেহতাব), অভিষেক, টাংরি, সূর্যবংশী (আপুইয়া), সাহাল, রবসন (মনবীর), দিমিত্রি ও কামিংস (ম্যাকলারেন)।

Advertisement

মোহন বাগান-০                     :                 ডেম্পো-০

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ