অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সপ্তাহের প্রথম দিন। তা সত্ত্বেও কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে ভিড় জমালেন হাজার পাঁচেক সবুজ-মেরুন সমর্থক। সকলেই বড় ব্যবধানে জয় দেখার সাক্ষী থাকতে চেয়েছিলেন। তাঁদের হতাশ করেনি হোসে মোলিনা ব্রিগেড। বিএসএফ’কে চার গোলে উড়িয়ে ডুরান্ড কাপে জয়ের ছন্দ বজায় রাখল পালতোলা নৌকা বাহিনী। জোড়া লক্ষ্যভেদ লিস্টন কোলাসোর। এছাড়া স্কোরশিটে নাম তুললেন মনবীর সিংও সাহাল আব্দুল সামাদ। ম্যাচ জিতলেও আলড্রেডদের ফিটনেসে ঘাটতি রয়েছে। এই জয়ের সৌজন্যে গ্রুপ বি’তে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মোহন বাগান। গ্রুপ টপার হতে গেলে ডায়মন্ডহারবার এফসি’কে হারানো ছাড়া গতি নেই তাদের।
গত ম্যাচের প্রথম একাদশে এদিন মোট চারটি পরিবর্তন আনেন মোহন বাগান কোচ। ৪-৫-১ ফর্মেশনে দল সাজান মোলিনা। ডায়মন্ডহারবারের কাছে আট গোল হজম করে বিএসএফ। তবে এদিন মোহন বাগানের শুরুটা হয় বেশ ছন্নছাড়া। এর মধ্যেও লিস্টন কোলাসোর সাজিয়ে দেওয়া বল জালে রাখতে ব্যর্থ অনিরুদ্ধ থাপা। পাল্টা দীপক টাংরির মিসপাস থেকে সুযোগ পেয়েছিল বিএসএফ। একা বিশালকে পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ কিশোরি। মিসপাস আর খেই হারানো ফুটবলের মধ্যেই ২৪ মিনিটে লিড নেয় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। বাঁ দিক থেকে রোশলের ভাসানো সেন্টার মনবীরের হেড জাল কাঁপায় (১-০)। পরের মিনিটেই সুযোগ এসেছিল লিস্টনের কাছে। কিন্তু তাঁর ফ্রি-কিক রুখে দেন বিএসএফ গোলরক্ষক।
বিরতির পর তিনটি পরিবর্তন করেন মোলিনা। আলবার্তো, কিয়ান এবং সাহাল মাঠে আসতেই অনেক জমাট দেখায় সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে। বিশেষ করে সাহালের প্রশংসা করতেই হবে। মাত্র দু’দিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেও এদিন দারুণ ফুটবল খেললেন এই কেরালাইট ফুটবলার। ৫৩ মিনিটে তাঁর পাস থেকে লিস্টনের ফিনিশ (২-০)। চার মিনিট পরেই ফের সফল এই জুটি। এবার সাহালের লম্বা থ্রু থেকে দুরন্ত টোকায় বল জালে পাঠালেন লিস্টন (৩-০)। এরপর ছিল দক্ষিণী মিডিওর পালা। ৬০ মিনিটে প্রতিপক্ষ বক্সে পাওয়া লুজ বল ফ্লিক করে গোলে রাখেন সাহাল (৪-০)। বল গোললাইন অতিক্রম করার পর বিএসএফ ডিফেন্ডার তা অবশ্য ক্লিয়ার করেছিলেন। শেষ পর্বে আলবার্তোর দূরপাল্লার শট রুখে না দিলে পাঁচ গোলে জয়ের খুশি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারতেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা।
মোহনবাগান: বিশাল, রোশন (অভিষেক সিং), দীপ্যেন্দু, টম (আলবার্তো), লেওয়ান, দীপক, অভিষেক সূর্যবংশী, লিস্টন, অনিরুদ্ধ (সাহাল), মনবীর (কিয়ান), সুহেল (পাসাং)।



