অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, বারাকপুর: সোমবার ঘরোয়া লিগে মোহন বাগান বনাম রেলওয়ে এফসি ম্যাচে ঘটনার ঘনঘটা। তারক হেমব্রমের চোট, ঝামেলা, পাঁচটি লাল কার্ডে উত্তপ্ত হল বৃষ্টি ভেজা বারাকপুর স্টেডিয়াম। তবে স্বস্তি একটাই। চড়া দাগের ম্যাচে রেলকে লাইনচ্যুত করে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। পালতোলা নৌকা বাহিনীর হয়ে স্কোরশিটে নাম তুলেছেন সন্দীপ মালিক ও শিবম মুণ্ডা। তবে রেলের বড় ধাক্কা তারক হেমব্রমের পায়ে চোট। বিরতিতে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিনও ৪-৫-১ ফর্মেশনে মাঠে নেমেছিল মোহন বাগান। লক্ষ্য ছিল, শুরুতেই গোল তুলে নেওয়া। ছয় মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত লিড নেয় পালতোলা নৌকা। সালাউদ্দিনের ক্রস থেকে জাল কাঁপান অধিনায়ক সন্দীপ মালিক (১-০)। টানা দু’টি ম্যাচে স্কোরশিটে নাম তুললেন তিনি। তবে ছাড়ার পাত্র ছিল না রেলওয়ে। অভিজ্ঞ তারক হেমব্রম মাঝমাঠের খেলা ধরতেই ছন্দে ফিরছিল তারা। কিন্তু তখনই অঘটন। ৩৫ মিনিটে মার্শাল কিস্কু কড়া ট্যাকলে গুরুতর আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন তারক। বাঁ পায়ের হাঁটুতে চোট লাগে তাঁর। তারকের অনুপস্থিতিতে বেলাইন হয়ে পড়ে রেল।
বিরতির পরও প্রাধান্য ছিল মোহন বাগানের। এই পর্বে পাসাং তামাংয়ের সেন্টার থেকে নেওয়া টংসিনের হেড বিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। এরপর ছন্দপতন। ম্যাচের বয়স তখন ৫৯ মিনিট। মিংমা শেরপাকে অবৈধভাবে বাধা দেন রেলওয়ের শৌমিক কোলে। মেজাজ হারিয়ে সালাউদ্দিন ধাক্কা মারেন শৌমিককে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মাঠের পরিবেশ। রেলের গোলরক্ষক সুদীপ্ত বন্দোপাধ্যায় চড়াও হন সালাউদ্দিনের উপর। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই ফুটবলার। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ডাগ-আউটেও। যার কারণে রেফারি লাল কার্ড দেখান অভিষেক আইচ ও মোহন বাগান টিম ম্যানেজারকে। এছাড়াও লাল কার্ড দেখেন রেলের শৌমিক, সুদীপ্ত ও মোহন বাগানের সালাউদ্দিন। ১১ মিনিট বন্ধ থাকার পর শুরু হয় ম্যাচ। ফলে ৯ জনের রেলওয়ের বিরুদ্ধে বাকি সময়টা খেলে ১০জনের মোহন বাগান। সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুফল মেলে ৯১ মিনিটে। সাহিলের লব ধরে ডান প্রান্ত থেকে আড়াআড়ি প্লেসমেন্টে লক্ষ্যভেদ শিবম মুণ্ডার (২-০)।
মোহন বাগান: দীপ্রভাত, সাহিল, বিলাল, লিওয়ান, মার্শাল, পাসাং (পীযূষ), সন্দীপ, মিংমা (তুষার), সালাউদ্দিন, করণ (অদিল) ও টংসিন (শিবম)।



