Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

দু’বার পিছিয়েও স্বস্তির জয় মোহন বাগানের, পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে গোল করে স্বজন হারানোর কান্না ম্যাকলারেনের

সংযোজিত সময় চলছে। জেসন কামিংসের ইনসুইং ফ্রি-কিক ফসকালেন পাঞ্জাব এফসি’র গোলরক্ষক অর্শদীপ। বল জালে জড়াতেই উচ্ছ্বাস শুরু মোহন বাগানে।

দু’বার পিছিয়েও স্বস্তির জয় মোহন বাগানের, পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে গোল করে স্বজন হারানোর কান্না ম্যাকলারেনের
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মোহন বাগান- ৩         :         পাঞ্জাব এফসি-২
(জেমি, সাহাল, কামিংস)      (রামিরেজ, এফং)

Advertisement

অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সংযোজিত সময় চলছে। জেসন কামিংসের ইনসুইং ফ্রি-কিক ফসকালেন পাঞ্জাব এফসি’র গোলরক্ষক অর্শদীপ। বল জালে জড়াতেই উচ্ছ্বাস শুরু মোহন বাগানে। তবে ফাউলের অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানায় পাঞ্জাব। কিন্তু লাভ হয়নি। বিতর্কিত গোলেই ৩-২ ব্যবধানে উতরে গেল লোবেরা ব্রিগেড। তিন ম্যাচ পর জয়ের সরণিতে ফিরল মোহন বাগান। তবে যুবভারতীর এই সাফল্য মোটেও দলগত নয়, ম্যাকলারেন, সাহাল ও কামিংসের ব্যক্তিগত মুন্সিয়ানার ফসল। দু-দু’বার পিছিয়ে পড়েও তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া নিঃসন্দেহে স্বস্তি দেবে কোচ সের্গিও লোবেরাকে। ৮ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠল মোহন বাগান। পক্ষান্তরে, ৭ ম্যাচে পাঞ্জাবের ঝুলিতে ১১ পয়েন্ট।
আপুইয়ার পরিবর্তে দীপক টাংরিকে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন কোচ লোবেরা। তিনি পুরো ব্যর্থ। এর পরেও হয়তো বয়ে বেড়ানো হবে টাংরিকে। দলে যোগ্য প্লে মেকারের অভাবও স্পষ্ট । আর তারই সুযোগ নিয়ে ছন্নছাড়া মোহন বাগান রক্ষণে ১২ মিনিটে ফাটল ধরায় পাঞ্জাব। ওসুজির সেন্টার থেকে বিনা বাধায় গোল করে গেলেন রামিরেজ (১-০)। এক্ষেত্রে আলবার্তো ও শুভাশিসকে বলের ধারেপাশেও দেখা গেল না। এরপর চোটের কারণে আলবার্তো মাঠ ছাড়তে সমস্যা আরও বাড়ে মোহন বাগানের। বাধ্য হয়ে ১৬ মিনিটে ফর্মেশন বদলাতে হয় স্প্যানিশ কোচকে। একসঙ্গে তিনি মাঠে নামান দিমিত্রি ও মেহতাবকে। তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। তা সত্ত্বেও ২৯ মিনিটে একক দক্ষতায় সবুজ-মেরুনকে সমতায় ফেরান ম্যাকলারেন। রবসনের পাস ধরে বক্সে ঢুকে ইনসাইড ডজে বিজয়কে টলিয়ে প্রথম পোস্ট দিয়ে জাল কাঁপান অজি ফরোয়ার্ড (১-১)। তারপর সেলিব্রেশন সারলেন চোখের জলে। জানা গিয়েছে, শনিবার তাঁর দিদা মারা গিয়েছেন। এই গোল তাঁকেই উৎসর্গ করেন ম্যাকলারেন।
বিরতির পরও প্রাধান্য বজায় রাখল পাঞ্জাব। আপুইয়ার অভাব বোঝা গেল বারবার। আনফিট রবসন শুধুই বিরক্তি বাড়ালেন। ৫৯ মিনিটে পাঞ্জাবের বাঁ-প্রান্তিক আক্রমণে রিকি পাস বাড়ান ওসুজিকে। বক্সের ভিতর ছিটকে আসা বল থেকে দুরন্ত ভলিতে লক্ষ্যভেদে ভুল করেননি নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার এফং। মেহতাবকে আড়াল করে জাল কাঁপালেন তিনি (২-১)। পিছিয়ে পড়ে সাহাল ও কামিংসকে মাঠ নামান লোবেরা। বেঞ্চে বসে মরচে পড়ে গিয়েছিল সাহালের। এদিন সুযোগ পেয়েই নজর কাড়লেন তিনি। প্রায় ৩৫ গজের দূরপাল্লার শটে জাল কাঁপালেন ভারতীয় মিডিও (২-২)। পালটা এফং, ওসুজিরাও শেষলগ্নে গোলের জন্য ঝাঁপালেন। দক্ষতার শীর্ষে উঠে বিপদ থেকে দলকে রক্ষা করলেন বিশাল কাইথ। শেষপর্বে কামিংসের গোলেই হাসি ফোটে সবুজ-মেরুন ডাগ-আউটে। ইস্ট বেঙ্গল ও জামশেদপুরকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল মোহন বাগান।
মোহন বাগান: বিশাল, শুভাশিস, আলড্রেড, আলবার্তো (মেহতাব), অভিষেক, লিস্টন, অনিরুদ্ধ, দীপক (সাহাল), মনবীর (দিমিত্রি), রবসন (কামিংস), ম্যাকলারেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ