


অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায় কলকাতা
সকাল থেকেই আকাশে সূর্যের দেখা নেই। বেলা গড়াতেই টাপুর-টুপুর বৃষ্টিতে ভিজল কলকাতা। স্বস্তি বাড়ল শহরবাসীর। কিন্তু মোহন বাগান ড্রেসিং-রুমের গুমোট আবহাওয়ার কোনও পরিবর্তন নেই। আসলে ডার্বি হেরে ডুরান্ড কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই চাপ বাড়ছে সবুজ-মেরুন শিবিরে। এসিএল টু’এর প্রথম ম্যাচেও সঙ্গী সেই হার। এরপর ইরানে খেলতে না যাওয়া এবং বিতর্ক। তাই বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে আইএফএ শিল্ড অভিযান শুরু করার আগে বেশ চাপে হোসে মোলিনা-ব্রিগেড। প্রতিপক্ষ আই লিগের দল গোকুলাম কেরালা এফসি। তবে শক্তির নিরিখে মোহন বাগান অনেকটাই এগিয়ে। তাই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে জয়ের চেনা পথে ফিরতে মরিয়া কামিংস-ম্যাকলারেনরা।
বুধবার বিকেলে যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই চূড়ান্ত মহড়া সারল মোহন বাগান। নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে তৎপর ছিলেন বাউন্সাররা। গোকুলাম বধের ছক গোপন রাখতে চেয়েছেন পালতোলা নৌকার সারথি মোলিনা। মূলত উইং প্লে’র উপরেই জোর দেওয়া হয়। মনবীর ও রবসনের মাধ্যমেই আক্রমণে ঝড় তুলতে চায় মোহন বাগান। শিল্ডে চার বিদেশি খেলাতে পারবে প্রতিটি দল। রক্ষণ জমাট রাখতে তৈরি আলড্রেড ও আলবার্তো। সিঙ্গল স্ট্রাইকারে ম্যাকলারেন। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে অনিরুদ্ধ থাপা এবং আপুইয়া। পরিবর্ত হিসেবে আসতে পারেন কামিংস।
২০১৪ সালের পর ফের মোহন বাগানের সিনিয়র দল আইএফএ শিল্ডে খেলতে নামছে। সেবার শেখ জামাল ধানমুন্ডির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে। সনি নর্ডির গোলে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশের দলটি। শেষবার গঙ্গাপাড়ের ক্লাব তাঁবুতে শিরোপা এসেছিল ২০০৩ সালে। দীর্ঘ ২২ বছর পর ফের শিল্ড জয়ের জন্য ঝাঁপাচ্ছে মোহন বাগান। কিন্তু কাজটা সহজ নয়। প্রতিপক্ষ গোকুলাম চার বিদেশি নিয়ে শিল্ডে খেলতে এসেছে। এই প্রতিযোগিতার জন্য দু’সপ্তাহ প্রস্তুতিও সেরেছে তারা। চাপে থাকা মোহন বাগানকে হারিয়ে চমক দিতে তৈরি হোসে হাভিয়া-ব্রিগেড। অনেকেই ধরে নিয়েছেন, শিল্ড ফাইনালে ডার্বি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। সেই হিসাবটাই গুলিয়ে দিতে চান গোকুলাম কোচ। শিল্ডের সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর মন্তব্য, ‘অপেক্ষা করেই দেখুন। জমি ছাড়ব না আমরা।’
কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু বিকেল তিনটেয়। সরাসরি সম্প্রচার এসএসইএন অ্যাপে।