শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: রবিবার ভরদুপুর। কাঠফাটা গরমেও মোহন বাগান তাঁবুতে টিকিট সংগ্রহের লম্বা লাইন। কয়েক মাইল দূরের যুবভারতীতেও একই ছবি। কামিংস, পেত্রাতোসদের প্র্যাকটিসে পর্যন্ত জমেছে ভিড়। জয়ধ্বনি শুনে ফুটবলারদের চোখ চকচকে। ছুটির দিন জমিয়ে লাঞ্চের পর ভাতঘুমের বদলে মাঠকেই বেছে নিলেন মোহন বাগান সমর্থকরা। ৬০ হাজার টিকিট নিঃশেষিত। সোমবার আইএসএলের ফিরতি সেমি-ফাইনালে হাউসফুল হওয়ার অপেক্ষায় যুবভারতী। জামশেদপুরকে বশ মানিয়ে আবারও খেতাব জয়ের দোড়গোড়ায় পৌঁছতে মরিয়া সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তবে শুধু জিতলেই হবে না। প্রথম লেগে ২-১ গোলে এগিয়ে জামশেদপুর। অর্থাৎ ফাইনালের টিকিট পেতে গেলে দু’গোলের ব্যবধান চাই। গোলপার্থক্য সমান হলে ৯০ মিনিটের পর ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। সেটা বুঝেই এদিন পেনাল্টি শ্যুট-আউট অনুশীলন করানো হল পেত্রাতোসদের। তবে মোহন বাগান কোচ নির্ধারিত সময়েই বাজিমাতে মরিয়া। হোসে মোলিনার মন্তব্য, ‘ফুটবলাররা মাঠে নামতে ছটফট করছে। অ্যাওয়ে ম্যাচের তুলনায় আমরা আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী।’
চলতি টুর্নামেন্টে ঘরের মাঠে অপরাজিত কামিংসরা। খালিদের দল সেখানে কতটা চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারবে? ম্যাচের আগে উত্তেজনা চরমে। আসলে ইস্পাতগরীর গ্যালারিতে হেনস্থার শিকার হন বেশ কিছু মোহন বাগান সমর্থক। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনের মাঝপথে তাঁদের হাজির করিয়ে চমকে দিল টিম ম্যানেজমেন্ট। কোচ ও ম্যাকলারেনের মাধ্যমে লাল গোলাপ ও ভিআইপি টিকিট তুলে দিয়ে শুভেচ্ছাও জানানো হয়। হোসে মোলিনার মন্তব্য, ‘ঘরের মাঠে সমর্থকরাই ফ্যাক্টর। ওরাই প্রবল চাপে রাখে বিপক্ষকে। সমর্থকদের জন্যই ম্যাচটা আরও বেশি করে জিততে চাই।’ অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের বালাই নেই। বরং আক্রমণে ঝড় তুলে জামশেদপুরের দুর্গ ভাঙতে তৈরি মোলিনার যোদ্ধারা।
এদিন অনুশীলনে সবার নজর ছিল মনবীরের দিকে। ফিটনেস ট্রেনার মরিয়া চেষ্টা করলেও জামশেদপুরের বিরুদ্ধে অনিশ্চিত এই পাঞ্জাবি ফুটবলার। বরং লিস্টনকে ডান প্রান্তে ব্যবহারের ভাবনা রয়েছে। লেফট উইংয়ে আশিক কুরুনিয়ানকে খেলিয়ে জামশেদপুরকে চাপে ফেলতে চায় মোলিনা ব্রিগেড। যুবভারতীর বড় মাঠে পাস খেলার সুযোগ বেশি। প্রাক্তন ফুটবলাররা এই কারণেই মেগা ম্যাচে পালতোলা নৌকাকে এগিয়ে রাখছেন।
সবুজ-মেরুন ঝড় সামলাতে কতটা তৈরি জামশেদপুর? ভারতীয় ফুটবলকে হাতের তালুর মতো চেনেন খালিদ। চাপ বুঝেই নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন তিনি। দলে তারকা নেই। স্রেফ টিম-স্পিরিটই তাঁর সম্পদ। রক্ষণ জমাট করে দল সাজাবেন জামশেদপুর কোচ। তবে কার্ডের জন্য স্টিফেন এজে ও আশুতোষের না থাকা বড় ধাক্কা। এদিকে রামনবমীর জন্য ম্যাচ হওয়া নিয়ে একটা সময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সমস্যা কাটাতে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিধাননগর পুলিসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে মোহন বাগান।
যুবভারতীতে ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিটে। সরাসরি সম্প্রচার স্টার স্পোর্টসে।