


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহমেডান আছে মহমেডানেই। বকেয়া বেতনের দাবিতে অনুশীলন বয়কট করেছেন সাদা-কালো ফুটবলাররা। শুক্রবার কোচ মেহরাজউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন প্র্যাকটিসে। কিন্তু ড্রেসিং-রুম ফাঁকা। ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর ফিরে যান বিরক্ত মেহরাজ। মে দিবসেই কার্যত ধর্মঘট রেড রোডের পাশের ক্লাবে। ময়দানে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, ইয়ে তো হোনা হি থা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় ময়দান। মহমেডান সচিব ইস্তিয়াক আহমেদ বললেন, ‘কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা করছি। ফুটবলাররা নিশ্চয়ই পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবেন।’ তবে ইস্তিয়াক যাই বলুন, এবার শুধু কথায় চিঁড়ে ভিজবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফুটবলার বলেই দিলেন, ‘টাকা না পেলে মাঠে নামার প্রশ্নই নেই। প্রয়োজনে ম্যাচ বয়কটের দাবিতে সবাই একজোট।’ ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ। স্পোর্টিং দিল্লির বিরুদ্ধে খেলতে রাজধানীতে গিয়েছিল মহমেডান। সস্তার হোটেলে রাখা হয় ফুটবলারদের। আধপোড়া চাপাটি, তরকারির বেশি কিছু জোটেনি। কলকাতায় কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও ফোন তোলেননি কেউই। ক্ষোভের আগুন জ্বলছে দাউদাউ করে।
আর্থিক সমস্যায় দীর্ঘদিন জর্জরিত শতাব্দীপ্রাচীন মহমেডান স্পোর্টিং। অবিলম্বে ১০ কোটি টাকা প্রয়োজন। কে দেবেন? কোনও উত্তর নেই। দায় কার? কর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সদস্য-সমর্থকরা। ট্রান্সফার ব্যান থাকায় কোনও বিদেশিকে সই করানো যায়নি। মুখ ফিরিয়েছেন ইনভেস্টরও। টাকা ঢালবেন তাঁরা। কিন্তু শেয়ার হস্তান্তরের গাজরের টোপ ঝুলিয়ে সময় চুরি করছেন কর্তারা। ময়দানে ওপেন সিক্রেট, দল গাড্ডায় যাক। শেয়ার ও চেয়ার পেলেই কর্তারা খুশি। তৃতীয় প্রধানের তকমা নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে অনেকদিন। এবার কার্যত অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে রেড রোডের পাশের ক্লাবটি।