নয়াদিল্লি: দেশ নয়, বিদেশেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রিত্বের গোড়া থেকেই তাঁকে শুনতে হয়েছে বিরোধীদের এমন কটাক্ষ। তবে থামেনি মোদির বিশ্বসফর। করোনা পরবর্তী সময়ে নতুন উদ্যমে তিনি যেতে শুরু করেন বিভিন্ন দেশে। এমন এমন দেশেও গিয়েছেন, যেখানে এযাবৎ কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীরই পা পড়েনি। আর সেই সফরগুলিতে খরচ করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার সরকারি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে এই নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের প্রকাশিত খবর বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৫—এই চার বছরে প্রধানমন্ত্রীর সফরে সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয়ের অঙ্কটা ৪৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি বছর খরচ হয়েছে ১১৫ কোটি টাকারও বেশি। সাধারণ মানুষের করের টাকায় প্রধানমন্ত্রীর সফরে এহেন বিপুল খরচ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
গত চার বছরে উত্তর থেকে দক্ষিণ গোলার্ধের ৪৩টি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে মোদির সফরনামা। সূদূর কানাডা থেকে অস্ট্রেলিয়া, সর্বত্র তিনি সফর করেছেন। গিয়েছেন মরিশাস, নামিবিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতেও। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশে একাধিকবার সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং জাপান। তিনটি দেশে তিনি চারবার করে গিয়েছেন। এরপরেই রয়েছে ফ্রান্স। ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর দেশে গিয়েছেন তিনবার। দু’বার করে গিয়েছেন ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া এবং ব্রাজিলে।
তথ্য অনুযায়ী, একবারের সফরে তাঁর সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে ফ্রান্সে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে প্যারিস গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে খরচ হয়েছে সাড়ে ২৫ কোটি টাকা। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে মার্কিন সফর। ২০২৩ সালের জুনে ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের দেশে গিয়েছিলেন তিনি। তখনও শুল্ক নিয়ে মার্কিন কোপে পড়েনি ভারত। সেই ওয়াশিংটন সফরে খরচ হয়েছিল ২২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। এই সফরেই মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন মোদি। ছিল মার্কিন আতিথ্যে নৈশভোজ। সেবার আমেরিকার মাটিতেই প্রধানমন্ত্রী পালন করেছিলেন আন্তর্জাতিক যোগা দিবস। তৃতীয় সর্বাধিক খরচও মার্কিন মুলুকে। ২০২১ সালে কোয়াড সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ভাষণ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভাতেও। ওই সফরেই ছিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্রনেতা এবং কর্পোরেট সিইওদের সঙ্গে বৈঠক। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছিল ১৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা।
খরচের বহর ধরলে প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন সফরই ছিল সবচেয়ে মহার্ঘ। স্যামচাচার দেশের চার সফরে তিনি ব্যয় করেছেন ৭৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, চার বছরে হওয়া মোট খরচের ১৬ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে জাপান এবং ফ্রান্স।