সুমন তেওয়ারি, দুর্গাপুর: ভোটের আবহে বাংলায় প্রতিটি জনসভাতেই সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে সরব হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আসানসোলের জনসভা থেকে কয়লা কারবারের সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে সুর সপ্তমে তোলেন তিনি। সেই নরেন্দ্র মোদিই শনিবার রাত্রিবাস করলেন শিল্পাঞ্চলের কয়লা কারবারি নিহত রাজু ঝাঁর হোটেলে। একদা শিল্পাঞ্চলের কয়লা কারবারের বেতাজ বাদশা রাজু ঝাঁ শক্তিগড়ে খুন হন। তবে হোটেলের মালিকানা তাঁদের পরিবারের হাতেই। সেই হোটেলেই কেন প্রধানমন্ত্রীকে থাকতে হল, তা নিয়ে তোপ দেগেছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম। সাফাই দিচ্ছে বিজেপি।
কংগ্রেস জেলা সভাপতি তথা দুর্গাপুর পূর্বের কংগ্রেস প্রার্থী দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল আর বিজেপি দু’টো দলই কয়লা মাফিয়াদের উপর নির্ভর করে চলে। ইডি, সিবিআইয়ের ভয়ে তৃণমূল নেতারা বিজেপিতে যায়। এদিন সব সীমা পার হয়ে গেল। দেশের প্রধানমন্ত্রী কয়লা মাফিয়ার হোটেলে থাকছেন। আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি। তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, শিল্পাঞ্চলের মানুষ জানেন রাজু ঝাঁ কীরকম কয়লা কারবারি ছিলেন। তাঁর পরিবারই হোটেলের নিয়ন্ত্রক। সেই হোটেলেই থাকলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তারপর উনিই আবার গিয়ে কয়লা মাফিয়া সিন্ডিকেট নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন। বিজেপির মুখোশ খুলে গিয়েছে।
দুর্গাপুর পশ্চিমের সিপিএম প্রার্থী প্রভাস সাঁই বলেন, প্রধানমন্ত্রীই একমাত্র মানুষ যিনি নির্বাচনের সময়েও সরকারি সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে কেন দুর্গাপুরের সরকারি বাসস্থানগুলি ছেড়ে একজন কয়লা কারবারির হোটেলে তাঁকে থাকতে হল। এর জবাব প্রধানমন্ত্রীকেই দিতে হবে। এনিয়ে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, দুর্গাপুরে উনি রাত্রিবাস করেছেন এটা আমাদের গর্বের। বিরোধীরা মুর্খ, হোটেলটি আইটিসি পরিচালনা করে। ওদের অভিযোগের কোনো উত্তর দেব না।
রাজু ঝাঁ আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের অতি পরিচিত কয়লা কারবারি। বাম আমলে কয়লা কারবারের নিয়ন্ত্রক হিসাবে উঠে আসে একদা লরির খালাসির কাজ করা রাজু। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক কয়লা পাচারের মামলা হয়। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট ছাড়াও বাঁকুড়া জেলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক কয়লা চুরির মামলা ছিল। সিআইডির হাতেও তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীকালে ২০২০ সালে তৎকালীন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে তাঁকে সক্রিয় ভাবে ভোট প্রচারে নামতে দেখা যায়। তাঁর হোটেলেই বিজেপি আয়োজন করেছিল রাজ্য বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পরবর্তীকালে তাঁর হোটেলে তৎকালীন কয়লা মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর সঙ্গে কয়লা কারবারি জয়দেব খাঁকে বৈঠক করতে দেখা যায়। যাঁর ছবি নিয়ে কলকাতায় সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য বিজেপিকে বার বার বিতর্কে ফেলা দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের সেই হোটেলেই রাত্রিবাস করলেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার রাত এগারোটা ১৫ মিনিটে তিনি হোটেলে আসেন। রবিবার সকাল দশটা ২৫ মিনিটে তিনি হোটেল থেকে রওনা দেন।