Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ব্রিগেডে মোদির পাঁচ জুমলা’, সরব তৃণমূল

ব্রিগেড সমাবেশে এসে পাঁচটি ক্ষেত্রকে নিশানা করে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সব অভিযোগকেই ‘জুমলা’ অ্যাখ্যা দিয়ে পালটা তথ্য পেশ করল তৃণমূল কংগ্রেস।

‘ব্রিগেডে মোদির পাঁচ জুমলা’, সরব তৃণমূল
  • ১৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্রিগেড সমাবেশে এসে পাঁচটি ক্ষেত্রকে নিশানা করে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সব অভিযোগকেই ‘জুমলা’ অ্যাখ্যা দিয়ে পালটা তথ্য পেশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার সমাজমাধ্যমে এব্যাপারে রীতিমতো পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্যের শাসকদল সাফ জানাল, ভুয়ো তথ্য পরিবেশন করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলার মানুষ জুমলা আর উন্নয়নমুখী সরকারের পার্থক্যটা বোঝে। যতই ভুয়ো প্রচার করা হোক না কেন, সত্যকে আড়াল করা যায় না।  

Advertisement

গত ১৪ মার্চ ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, উন্নয়নের জন্য বিস্তর টাকা দেওয়া হয় কেন্দ্র সরকারের তরফে। কিন্তু তা খরচ করে না রাজ্য সরকার। বন্ধ থাকা জল জীবন মিশন প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। অভিযোগ করেছিলেন, বাংলায় মহিলারা সুরক্ষিত নন। এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গিয়েছে রাজ্য। ওই পাঁচটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর তোলা অভিযোগকে খণ্ডন করে তৃণমূলের কটাক্ষ—‘রাজনৈতিক পর্যটক’ ফের রাজ্যে এসেছেন। প্রতিবারের মতোই উগড়ে দিচ্ছেন ভুয়ো তথ্য ও বিষাক্ত জুমলা। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলায় লাগাতার উন্নয়ন করে চলেছে বিজেপি। তৃণমূলের জবাব, বাংলার ন্যায্য বকেয়া ১ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছেন। উলটোদিকে সংগৃহীত রাজস্ব থেকে রাজ্য সরকার প্রতি বছর ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা শুধুমাত্র লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য খরচ করছে। ইতিমধ্যে এই খাতে ব্যয় ৭৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
কেন্দ্রের পাঠানো অর্থ খরচ না করার জবাবে জোড়াফুল শিবির বলছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ১০০ দিনের কাজে প্রাপ্য ৫২ হাজার কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে। একই পরিস্থিতি রাজ্যে জল জীবন মিশনেও। শুধুমাত্র ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেই এই প্রকল্পের ২ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের হিসাব ধরলে বকেয়ার পরিমাণ সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। আর এ রাজ্যে মহিলারা নিরাপদ নয়? এনসিআরবি’র সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে, বিজেপি শাসিত দিল্লিতে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় অপরাধ হয় ২ হাজারের বেশি। মহিলাঘটিত অপরাধে শীর্ষে রয়েছে গেরুয়া রাজ্য উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ। মোদি অভিযোগ করেছিলেন, অনুপ্রবেশকারীতে ভরেছে বাংলা। জোড়াফুল শিবিরের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে প্রায় ৬০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আরও ৬০ লাখ নাম এখন বিচারাধীন। কতজন অনুপ্রবেশকারী মিলেছে? একজনও না! রোহিঙ্গাদের নাম করে শুধু ভোটার বাদ দেওয়ার ছক কষেছে বিজেপি। 

সম্পর্কিত সংবাদ