নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইউপিআই (ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস)-এ দু’ হাজার টাকার বেশি ব্যবসায়িক লেনদেনে মাশুল (মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট) চাপানোর বিরোধিতায় সরব রাহুল গান্ধী। বিষয়টিকে সরাসরি আমেরিকার কাছে নরেন্দ্র মোদির আত্মসমর্পণ বলেই অভিযোগ লোকসভার বিরোধী দলনেতার। অবিলম্বে মাশুল প্রত্যাহারের দাবি করলেন তিনি। স্রেফ নিজেই নয়। দলের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ এবং সুপ্রিয়া শ্রীনেতকে দিয়েও দাগালেন তোপ।
ইউপিআই লেনদেন দু হাজার টাকার বেশি হলে ০.৪% চার্জ দিতে হবে। এমনটাই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে মোদি সরকার। সেই মাশুল ব্যবসায়ী দেবে। কিন্তু আদতে ব্যবসায়ীরা তা ঘুরিয়ে গ্রাহকের থেকেই উসুল করবে বলেই একপ্রকার নিশ্চিত। ফলে বেড়ে যাবে জিনিসপত্রের দাম। তাই এতদিন যেভাবে ইউপিআই লেনদেন ফ্রি ছিল, তা বহাল রাখার দাবি করেছে কংগ্রেস।
রাহুল বুধবার তাঁর ঠাকুরমা প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীর তৈলচিত্রের সামনে তোলা ভিডিও বার্তা জারি করে বলেছেন, একসময় ইন্দিরাজিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি কোন দিকে ঝুঁকে থাকেন? বাম, নাকি ডান? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমি কোনো দিকে ঝুঁকি না। সোজা দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু মোদিজির ভাবনা ভিন্ন। উনি বাম কিংবা ডান দিক নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে একেবারে সোজা শুয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাহুলের অভিযোগ, ইউপিআই মাশুলের মাধ্যমে মোদি প্রত্যেক ভারতবাসীর উপর কর বসিয়েছেন। এবং আমেরিকার হাতে বিপুল অর্থ তুলে দিচ্ছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীকে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন রাহুল।
কংগ্রেস মুখপাত্র রমেশের কটাক্ষ, ডিগবাজি খেতে ওস্তাদ প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যাপারে ২০২৫ সালের ১১ জুন অর্থমন্ত্রকের একটি বিবৃতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ওই বিবৃতিতে ইউপিআইয়ে মাশুল চাপানোর খবরকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তকর বলা হয়েছিল। তাহলে এখন কী বলবেন মোদিজি? প্রশ্ন ছুঁড়ে সুপ্রিয়া বলেন, দেশে দু’ হাজার টাকার বেশি গ্রাহক-ব্যবসায়ী ইউপিআই লেনদেন হয় ৬৬.২২ লক্ষ কোটি টাকার। ফলে এই লেনদেনের ওপর যে মাশুল চাপবে, তা আদতে গ্রাহকের পকেট থেকেই যাবে। আর লাভ করবে কে? গুগল পে, ফোন পে’র মতো আমেরিকার কোম্পানি। তাই আমাদের প্রশ্ন, কেন আমেরিকার কোম্পানির জন্য আম ভারতীয়র থেকে পয়সা উসুলের উদ্যোগ নিয়েছেন মোদিজি?
কংগ্রেসের সওয়াল, ইউপিআই চালাতে বছরে প্রয়োজন ২০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মোদি সরকারকে ২.৮৭ লক্ষ কোটি ডিভিডেন্ট দিয়েছে। সরকারি ব্যাঙ্কগুলির মুনাফার পরিমাণ ৪.১১ লক্ষ কোটি টাকা। ইউপিআইয়ের পরিচালক সংস্থা এনপিসিআইয়ের রয়েছে ১,৮৮৮ কোটি টাকা। তাহলে কেন কর চাপাচ্ছে সরকার? প্রশ্ন কংগ্রেসের।