সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুর ও শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন রাস্তায় মডিফায়েড সাইলেন্সার লাগানো বাইক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যুব সমাজের একাংশ বিকট আওয়াজ করে ও বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানোয় অতিষ্ঠ এলাকার বাসিন্দারা। মডিফায়েড সাইলেন্সার লাগানোয় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ু ও শব্দদূষণ। এমনকী, দ্রুতগতির কারণে মাঝেমধ্যেই শহরে দুর্ঘটনা ঘটছে। তা সত্ত্বেও নজর নেই বোলপুর ও শান্তিনিকেতন থানার পুলিসের। বেপরোয়া গতি ও প্রচণ্ড আওয়াজে নাজেহাল মানুষজন অবিলম্বে পুলিস- প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। কিন্তু, ধরপাকড় না হওয়ায় দিনের পর দিন দাপট বেড়েই চলেছে।
যে কোনও বাইক কোম্পানি দূষণের গাইডলাইন মেনেই বাইকে সাইলেন্সার লাগায়। তাতে আওয়াজের পাশাপাশি বায়ু ও শব্দ দূষণ সঠিক পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ হয়। কিন্তু, নতুন প্রজন্মের বাইক চালকদের তাতে মন ভরছে না। তাদের সেই অতৃপ্ত বাসনাকে পূরণ করতে বোলপুরের অনেক বাইক পার্টসের দোকানে অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে মডিফায়েড সাইলেন্সার। যার দাম পাঁচ হাজার থেকে দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত। তাতে আওয়াজ পরিবর্তন করা যায়। টাকার পরোয়া না করে অনেকেই তা লাগিয়ে বেপরোয়াভাবে রাস্তায় বাইক চালাচ্ছে। গতি ও আওয়াজে মজেছে বোলপুর ও শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ প্রজন্মের একাংশ। মডিফায়েড সাইলেন্সার যুক্ত বাইক চালালে শুধু আওয়াজ নয়, এর থেকে বায়ু ও শব্দদূষণ বেশি হচ্ছে। এই অবৈধ কার্যকলাপের জন্য আইনি ও জরিমানা দুইয়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু, পুলিস কড়া না হওয়ায় এমন বাইকের দাপট দিন দিন বাড়ছে। বিশেষত বোলপুর থানার প্রভাত সরণী, রবীন্দ্রবীথি বাইপাস ও শান্তিনিকেতন থানার শান্তিনিকেতন রোড, রতনপল্লি, প্রান্তিক বাইপাস প্রভৃতি রাস্তায় বাইকারদের সবথেকে বেশি দাপট। এই রাস্তাগুলিতে অত্যন্ত দ্রুতগতি ও আওয়াজ করে বাইক চালানো কার্যত রোজকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত অভিযান চালানো হয় না বলেই এই বাড়বাড়ন্ত। পুলিসের এই উদাসীনতাকে কাজে লাগাচ্ছে শহরের বাইক পার্টস বিক্রেতাদের একাংশ। মডিফায়েড সাইলেন্সার বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও অনেকে ভালো লাভ থাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মডিফায়েড সাইলেন্সার লাগানোর ফলে দূষণের পাশাপাশি গাড়ির মাইলেজ কমে যায়। ইঞ্জিনও দ্রুত খারাপ হয়। কিন্তু, তা সত্ত্বেও নিজেদের মনোরঞ্জনের জন্য অনেক বাইকার মডিফায়েড সাইলেন্সার কিনছেন। ধরপাকড় না হলে অনেকে দুর্ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা করছেন। এমনকী, অধিকাংশ যুবক হেলমেট ছাড়াই বাইক চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। বোলপুরের অভিজিৎ থান্ডার ও সুবীর হাজরা বলেন, তরুণ সমাজের একাংশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রচণ্ড আওয়াজ করে দ্রুতগতির বাইক চালানোর প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। এরফলে প্রধান সড়কে সাধারণ মানুষের চলাফেরা কঠিন কঠিন হয়ে পড়ছে। এমনকী, এদের অধিকাংশই হেলমেট ছাড়া বাইক চালাচ্ছে। পুলিসকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানাচ্ছি।
বীরভূম জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ সিং বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। ট্রাফিক ও বোলপুর-শান্তিনিকেতন দুই থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।