নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন পুরীর শঙ্করাচার্য নিশ্চলানন্দ সরস্বতী। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘পরম্পরাগত আচার্যদেরও নিজের অনুগত বানাতে চান প্রধানমন্ত্রী। এটা উচিত নয়। শাসনতন্ত্রের অধীনে রাখতে চান শঙ্করাচার্যদের। শঙ্করাচার্যরা তাঁর অধীনে থাকবেন, এই ভ্রম ছাড়লেই ভালো প্রধানমন্ত্রী হবেন।’
এদিন আসানসোলের এক দীক্ষা অনুষ্ঠানে এসেছিলেন নিশ্চলানন্দ। সেখানে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীকে একের পর তোপ দাগেন। তিনি আরও বলেন, ‘নরসিমা রাও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। পাশেই মসজিদ রয়েছে বলে আমি সম্মতি দিইনি। আমাদের তিনি মারার অনেক চেষ্টা করেছেন। বিফল হয়েছেন। বাজপেয়ির আমলে একজন আতঙ্কবাদীকে পুরীর শঙ্করাচার্য বানানোর চেষ্টা হয়। বিফল হয়েছিলেন। তাঁকেই মোদিজি এখন প্রশ্রয় দিচ্ছেন। শাসনতন্ত্র যদি ধর্মীয় আচার্যদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তা দেশের পক্ষে ক্ষতিকর। মুসলিমরাও দেশ শাসন করেছেন। তখন কি কোনও আতঙ্কবাদী শঙ্করাচার্য হয়েছে? শঙ্করাচার্য পদ নিয়ে টানাটানি করা দেশের অপমান।’
আসানসোলে বেশ কিছুদিন ধরেই দীক্ষা অনুষ্ঠান রয়েছে নিশ্চলানন্দ সরস্বতীর। আসানসোল চেম্বার অফ কর্মাসের সাধারণ সম্পাদক শম্ভুনাথ ঝাঁ সহ বহু বিশিষ্টজন আয়োজক। বহু ভক্ত সমাগমও হচ্ছে। তার মাঝেই মাইক নিয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর ধর্মের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুখ খোলেন। মোদিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বয়স নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। রসিকতার সঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনি আগে বলেছেন ৭৫ বছরের পর রাজনীতিতে থাকা উচিত নয়। তা হলে উচিত নয়। কিন্তু মানসিক বা শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকলে কোনও সমস্যা নেই।’ দেশের গো হত্যা নিয়েও এদিন সরব হয়েছেন নিশ্চলানন্দ। তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি তখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। মনমোহন সিং দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি গো হত্যার জন্য মনমোহনজির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। আজ প্রধানমন্ত্রী তিনি নিজেই। তা হলে কেন দেশে গো হত্যা বন্ধ করতে পারছেন না?
তবে, কিছু ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির প্রশংসাও শোনা গিয়েছে নিশ্চলানন্দের মুখে। তিনি বলেন, ‘যাঁকে দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী করেছে। বিশ্ব নেতা মানছে তাঁর কী শিক্ষাগত ডিগ্রি থাকল কি থাকল সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’ পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ নিয়েও সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ‘রাজ্যের আর্থিক সমৃদ্ধির জন্য মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। ধর্মীয় উদ্দেশ্য নয়। রয়েছে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য। পুরীর শঙ্করাচার্যের নরেন্দ্র মোদি প্রসঙ্গে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই বলেন, ‘উনি বিদ্বান মানুষ। ওঁর মন্তব্যের পাল্টা কিছু বলব না। আমরা এটা বলতে পারি, সমস্ত দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মোদিজি বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার মধ্যে শঙ্করাচার্যরাও রয়েছেন।’