চেন্নাই: দেশের প্রথম ‘ভার্টিকাল-লিফ্ট’ সেতু। জাহাজ যাওয়ার পথ করে দিতে খুলে যাবে উলম্ববভাবে। রবিবার রামনবমীর দিন তামিলনাড়ুতে পামবান সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রামেশ্বরম দ্বীপকে দেশের মূল ভূখণ্ড মন্দপমের সঙ্গে জুড়েছে রামনাথপুরম জেলায় অবস্থিত এই সেতু। এর উপর দিয়ে যেমন ট্রেন চলাচল করবে, তেমনই নীচ দিয়ে অনায়াসে যাবে জাহাজও। তবে এদিনের অনুষ্ঠানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনকে দেখা যায়নি। স্বচ্ছভাবে আসন পুনর্বিন্যাসের দাবিতে সেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বয়কট করেন তিনি।
শ্রীলঙ্কায় তিন দিনের সফর শেষে এদিন তামিলনাড়ুতে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেতুর উদ্বোধনের পাশাপাশি উপকূলরক্ষীর জাহাজ ও রামেশ্বরম-তামবরম ট্রেনের যাত্রার সূচনাও করেন। জানা গিয়েছে, রামেশ্বরমে রামনাথস্বামী মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর রাজ্যে সবমিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকার রেল ও সড়কপথ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তিনি।
১৯১৪ সালে ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে তৈরি হয়েছিল পামবান সেতু। কিন্তু বর্তমানে পুরনো সেতুটি অকেজো হয়ে পড়েছে। আর সেই জায়গায় ৭০০ কোটির ব্যয়ে তৈরি হয়েছে ২.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু। এর মাঝ বরাবর
জাহাজ চলাচলের পথ খোলা রাখতে তৈরি করা হয়েছে ৭২.৫ মিটার লম্বা উল্লম্ব একটি অংশ। যা জলস্তর থেকে ১৭ মিটার উপরে উঠে নীচ দিয়ে জাহাজ যাওয়ার পথ করে দেবে। সেতুতে দু’টি রেলওয়ে ট্র্যাকও রয়েছে। যার উপর দিয়ে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ছুটে যাবে ট্রেন। এটি এমন বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে যে, চরম আর্দ্র আবহাওয়াতেও দীর্ঘ সময় অক্ষত ও মজবুত থাকবে।
এদিন আসন পুনর্বিন্যাসের দাবিতে সেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বয়কট করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তাঁর বক্তব্য, ‘তামিলনাড়ুর মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছ্বভাবে আসন পুনর্বিন্যাসের গ্যারান্টি দিতে হবে। প্রয়োজনে সংসদে একটি প্রস্তাব পাস করে তাঁকে পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজ্যবাসীর ভয় দূর করতে জনসমক্ষে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।