নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের প্রথম বিমানবন্দর সংযোগকারী মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধন হতে চলেছে আগামী শুক্রবার। নয়া রুটে মেট্রোয় সওয়ারি হবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সূত্রেই কলকাতার পরিবহণ মানচিত্রে নয়া দিগন্ত খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, মেট্রো পথে জুড়ে যাবে হাওড়া-শিয়ালদহ-এয়ারপোর্ট। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর (জয় হিন্দ) মেট্রোর সূচনা করবেন। পাশাপাশি ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রুটে বহু প্রতীক্ষিত শিয়ালদহ-এসপ্ল্যানেডও জুড়ে যেতে চলেছে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি) থেকে বর্তমান ভবন (বেলেঘাটা) পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশের উদ্বোধনও হবে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে।
এই সবক’টি রুটে যাত্রী পরিষেবা চালু হলে এয়ারপোর্টে নেমে সহজেই পৌঁছন যাবে নোয়াপাড়া। সেখান থেকে ব্লু-লাইন ধরে এসপ্ল্যানেড চলে যাওয়া যাবে। সেখান থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডর ধরে হাওড়া স্টেশন-হাওড়া ময়দান কিংবা শিয়ালদহ-সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত যাতায়াত আরও মসৃণ হবে। রবিবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী যশোর রোড স্টেশন থেকে মেট্রোয় চেপে এয়ারপোর্ট যাবেন। সেখান থেকে ফের যশোর রোড স্টেশনে ফিরে আসবেন। তারপর দমদম জেল মাঠে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
বিমানবন্দর স্টেশনে ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় ভূগর্ভস্থ মেট্রো টার্মিনাস গড়ে উঠেছে। স্টেশনটি ৫৫০ মিটার লম্বা ও ৪১.৬ মিটার চওড়া। এই স্টেশন নির্মাণের সময় ‘এয়ারপোর্ট অথারিটি অব ইন্ডিয়া’ বিশেষ কারণে আপত্তি জানিয়েছিল। কারণ, সেই সময়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্টেশনটি হওয়ার কথা ছিল মাটির উপর। তাছাড়া, বিমানবন্দরের এত কাছে স্টেশনের বিশাল নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে মাটির নীচেই দেশের গভীরতম মেট্রো স্টেশন তৈরির অনুমোদন মেলে। বিমানবন্দরের টার্মিনাল বিল্ডিং থেকে ১৫০ মিটার দূরে গড়ে উঠেছে এই অত্যাধুনিক মেট্রো স্টেশন। এই পথ সাবওয়ের মাধ্যমে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ‘মুভিং ওয়াকওয়ে’র মাধ্যমে যাত্রীরা সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন। প্রসঙ্গত, গত বছর ৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয় গঙ্গার তলদেশ দিয়ে মেট্রো সফর করেছিলেন। ওই অংশে যাত্রী পরিষেবা শুরু হয়েছিল সেই বছর ১৫ মার্চ।