নয়াদিল্লি, ২ অক্টোবর: মাঝ আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। আজ শুক্রবার তাঁর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলে প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ক্যাপ্টেনের সাহস, ধৈর্য এবং উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই এই বড়োসড়ো বিপদ থেকে রক্ষা পায় ভারত।
হাসপাতালে শয্যা থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। ভিডিয়ো কলে মোদি জানান, আপনার সাহস, ধৈর্য এবং উপস্থিত বুদ্ধি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন গুরুতর আহত অবস্থাতেও নিজের জীবনের কথা না ভেবে আপনি যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অপরদিকে ক্যাপ্টেন স্মিত ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রীর সামনে। ক্যাপ্টেন জানান, আপনিই আমার সবচেয়ে বড়ো আদর্শ। পাশাপাশি ভয়াবহ সেই মুহূর্তে মনের জোর ধরে রাখতে তাঁর একমাত্র মন্ত্র ছিল হনুমান চালিশা। সেই মন্ত্র জপ করেই শেষ পর্যন্ত ক্ষতবিক্ষত-রক্তাক্ত শরীর নিয়েই ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন তিনি। ক্যাপ্টেন আরও জানান ১৭ বছর ধরে বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা এবং গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করার জেরে চোখ বন্ধ থাকলেও বিমানের পরিস্থিতি তিনি বুঝতে পারেন। আহত অবস্থায়ও তিনি অনুভব করেছিলেন যে বিমানটি দ্রুত নীচে নেমে যাচ্ছে। এরপরই তিনি কোনোভাবে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তাঁরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ছুটে এসে তাঁকে সাহায্য করেন। গোটা ঘটনায় তাঁদের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি অন্য যাত্রীদের জীবন বিপন্ন হতে দিতে পারেন না বলেও জানান ক্যাপ্টেন স্মিত।
বুধবার সকালে দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ বিমানের সহ-পাইলট, ওমানের এক নাগরিক, ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন স্মিতকে ছুরি দিয়ে হামলা করেন এবং বিমানটি বিপজ্জনকভাবে নীচের দিকে নামতে শুরু করে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায় বলে জানা গিয়েছে। বিমানে থাকা যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটের ভিতর থেকে শব্দ শুনে সেইখানে ছুটে যান। এরপর ক্যাম্পেন স্মিতের তৎপরতায় ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ায় বিমানে থাকা যাত্রীরা সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে থাকা দ্বিতীয় জোড়া ফ্লাইদুবাই পাইলটের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে। ওই বিমানে ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন।