নয়াদিল্লি, ২ অক্টোবর: আজ থেকে বিক্ষোভে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি। মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ‘মহা কারচুপি’র অভিযোগ। বিজেপিকে নিশানা করে তোপ বিরোধীদের। একসঙ্গে লড়াই করার বার্তাও দিয়েছেন মমতা-রাহুলরা। জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের ‘সময়সীমা’ বেঁধে দিয়েছিল সিজেপি। তবে পদত্যাগ তো অনেক দূরের কথা, এক বারের জন্য প্রকাশ্যেও আসেননি মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার। সিজেপির তরফে বলা হয়েছিল, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন চলবে। শুক্রবার, মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ কর্মসূচির কথা। সমাজ মাধ্যমে একের পর এক ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে অভিজিৎ দীপকেদের তরফে। সকলকে কর্মসূচিতে যোগদানের আহ্বানও জানাচ্ছেন সিজেপি নেতারা।
উল্লেখ্য, এর আগে নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে দিল্লির যন্তর মন্তর উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে কেবল দিল্লি নয় দেশের সর্বত্র চলে বিক্ষোভ কর্মসূচি। প্রতিবাদের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এবার একবার ফের প্রতিবাদে নামছে ‘ককরোচরা’। যদিও শিবাজি পার্কে এরকম কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না বলেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। পুলিশ আধিকারিকদের তরফে বলা হয়েছে, কর্মসূচির জেরে শব্দদূষণ এবং যানজটের সৃ্ষ্টি হতে পারে। কাছেই হাসপাতাল হওয়ায় রোগীদের যাতায়াতেও প্রভাব পরতে পারে। এছাড়াও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শিবাজি পার্ক কেবল শিশুদের জন্য খেলার এলাকা। সেখানে জমায়েতের কোনো অনুমতি নেই।
তবে পিছুপা হতে নারাজ সিজেপি। অনুমতি না মেলায় সিজেপির তরফে ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে শিবাজি পার্কে। দিল্লির যন্তর মন্তরেও বাড়তি নিরাপত্তা। উড়ছে ড্রোন। বলিউডের একাধিক তারকা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন। সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে যোগদানের কথা বলছেন বিশাল দাদলানি থেকে শুরু করে শাবানা আজমিরা। শাবানা একটি ভিডিও ভোট পোস্ট করে বলেন,‘প্রশ্ন করা আমাদের অধিকার। ঘর থেকে বের হন। প্রশ্ন করুন। আওয়াজ তুলুম নিজের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য।’ অন্যদিকে বিশাল গান গেয়ে ইনস্টাগ্রামে রিল শেয়ার করে বলেন,‘জ্ঞানেশ কুমার আপনি দেশের গণতন্ত্রের সঙ্গে খেলা করেছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে খেলা করেছেন। আপনাকে যেতেই হবে।’
সিজেপি নেতা সৌরভ দাস বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন,‘মুম্বাইয়ের পরে আমরা দিল্লি যাব। সংবিধান আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার দেয়। সংবিধানের দেওয়া সেই অধিকার যদি আপনাদের পছন্দ না হয়, তাহলে সাহস থাকলে সংবিধানকেই পাল্টে দিন।’ শুক্রবার বিকেল চারটে থেকে আন্দোলনে নামছে সিজেপি। যদিও মুম্বাই পুলিশের উপর এখনও আস্থা রাখছেন সৌরভরা। তবে পরবর্তীতে এই আন্দোলন কী রূপ নেয়? এখন সেটাই দেখার।