নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম তিনি নাগপুরে। সঙ্ঘের সদর দপ্তরে। আর পৌঁছেই চিরাচরিত আত্মপ্রচারের পথ ছেড়ে আরএসএস বন্দনায় নরেন্দ্র মোদি। বললেন, ‘আজকের ভারত সঙ্ঘের সাধনার ফল। আগামীর ভারতও হবে সঙ্ঘের তপস্যার ফল। আরএসএসের স্বপ্ন সফল করবে বিকশিত ভারত। নতুন ভারতের স্বপ্নপূরণের কারিগর ডক্টরসাব এবং গুরুজি (ডক্টর কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এবং মাধব সদাশিবরাও গোলওয়ালকর)। অর্থাৎ, বিকশিত ভারত আর মোদির নয়। সবটাই সঙ্ঘের ফর্মুলা। সঙ্ঘেরই দান। কিন্তু হঠাৎ এভাবে আরএসএসের কাছে তিনি নতজানু কেন? গত ১১ বছরে তো এমন দৃশ্য দেখা যায়নি? এমনকী রামমন্দির উদ্বোধনের সময় সরসঙ্ঘ চালক মোহন ভাগবত তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও মোদিই ছিলেন সর্বেসর্বা। তাহলে কি ‘অবসরের’ মুখে দাঁড়িয়ে কুর্সি নিশ্চিত করতে সঙ্ঘের মুখাপেক্ষী হতেই হচ্ছে তাঁকে?
২০২৯ সালে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন। কিন্তু আগামী সেপ্টেম্বরেই ৭৫ বছর পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে তাঁর। অর্থাৎ, ৭৫’এ অবসরের যে নিয়ম তিনি দল তথা সরকারে চালু করেছেন, এখন তারই জাঁতাকলে আটকে গিয়েছেন মোদি! এই অবস্থায় সঙ্ঘের আপত্তি তাঁর চিত্রনাট্যের ক্লাইম্যাক্স হতেই পারে। তাই নাগপুরে রবিবার দেখা গিয়েছে অন্য নরেন্দ্র মোদিকে। লক্ষণীয় হল, অটলবিহারী বাজপেয়িও ২০০০ সালে, তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের শেষ ইনিংসেই নাগপুরে সঙ্ঘের সদর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তাই এটা সমাপতন, নাকি ভিন্ন প্রেক্ষিত? চর্চা চলছেই।
ভাগবতের সামনে নরেন্দ্র মোদি বুঝিয়েছেন, তাঁর জমানায় দেশের যাবতীয় যা উন্নতি, তা সবই আরএসএসের সুশিক্ষার ফল। আয়ুষ্মান ভারত থেকে পূর্ণকুম্ভ—একমাত্র কৃতিত্ব সঙ্ঘের। ‘আরএসএস আদতে একটি বটবৃক্ষ’—এ কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার নাগপুরে মাধব নেত্রালয় প্রিমিয়াম সেন্টারের শিলান্যাস অনুষ্ঠান ছিল উপলক্ষ মাত্র। দলীয় সূত্রে খবর, এজেন্ডা ছিল দু’টি। মোদির ‘অবসর’ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির নাম চূড়ান্ত করা। ‘অবসর’ ঠেকানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও রবিবার ভাগবত-মোদি সাক্ষাতের পর একটি বিষয় স্পষ্ট—জে পি নাড্ডার উত্তরসূরি নিয়ে সুস্পষ্ট দিশানির্দেশ পেয়ে গিয়েছেন মোদি। তবে উল্লেখযোগ্য হল, তিনি গত দুটো ইনিংসে মোদিতন্ত্রের চেনা ছক বদলে ঘোষণা করেছেন, নয়া ভারতের অন্যতম প্রধান স্থপতি সঙ্ঘ পরিবারই। মনে রাখতে হবে, সেপ্টেম্বরে শতবর্ষ পূর্তি আরএসএসেরও। তারা চাইছে, অখণ্ড ভারত, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং হিন্দুরাষ্ট্র নিয়ে তাদের এজেন্ডা এবার পূরণ হোক। সেই কারণেই তো জন্ম বিজেপির! তাই দল কখনও তাদের উপরে যেতে পারে না। ব্যক্তি তো নয়ই। শেষবার মোদি নাগপুরে আরএসএসের সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন ২০১৩ সালে। অর্থাৎ, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন। প্রায় ১২ বছর পর ফের তিনি নাগপুরে। ফল কী হল? বলবে অদূর ভবিষ্যৎ।