নয়াদিল্লি: আমেরিকা ও পাকিস্তানের ‘রোম্যান্স’ অব্যাহত। অথচ ‘স্বঘোষিত বিশ্বগুরু’ গোটা পৃথিবীকে ‘জ্ঞান’ দিতেই ব্যস্ত। শুক্রবার এভাবেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সরব হল কংগ্রেস। ঘটনাচক্রে, একদিন আগেই ওয়াশিংটনে আমেরিকা গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মঞ্চে অন্যান্য রাষ্ট্রনেতার পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও উপস্থিত ছিলেন। গাজার সংকট নিরসনে সেই সূচনা বৈঠকে ভারত সরাসরি যোগ না দিলেও ‘পর্যবেক্ষক দেশ’ হিসেবে সেখানে উপস্থিতি ছিলেন ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিক নামগিয়া খাম্পা। সেই আবহেই শুক্রবার বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকারকে।
গতকাল ওয়াশিংটনের বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শরিফ। ট্রাম্পকে তিনি ‘শান্তি মানব’ ও ‘দক্ষিণ এশিয়ার রক্ষক’ বলে মন্তব্য করেন। আর শরিফের বক্তব্যের উল্লেখ টেনে ট্রাম্প ফের দাবি করেন, ‘পাক প্রধানমন্ত্রীই বলেছেন ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধ থামিয়ে আমি আড়াই কোটি মানুষের প্রাণরক্ষা করেছি। পরমাণু অস্ত্র থাকা দু’টি প্রতিবেশী দেশকে হুমকি দিয়েছিলাম, যুদ্ধ না থামালে ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপাব।’ এমনকি, ভারত-পাক সংঘাতে ১১টি বহুমূল্য যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ‘বোর্ড অব পিস’-এর মঞ্চ থেকে ট্রাম্প বলেন, ‘পাকিস্তান ও ভারতকে ধন্যবাদ। প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি খুবই উচ্ছ্বসিত। এই মুহূর্তে তিনি আমাদের দেখছেনও।’ ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আমেরিকার চাপে আত্মসমর্পণের অভিযোগে সরব কংগ্রেস। গতকাল ওয়াশিংটনের ওই অনুষ্ঠানের পর এদিন কেন্দ্রের মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ফের সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেসে সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের তোপ, গতকাল ওয়াশিংটনের মঞ্চ থেকেই প্রমাণিত হয়েছে, আমেরিকা ও পাকিস্তানের রোম্যান্স অব্যাহত। পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসবাদী হামলা সত্ত্বেও পাকিস্তানকে যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র মূল্য চোকাতে হয়নি তা ফের প্রকাশ্যে চলে এল। মোদি সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি যে বাস্তবে অন্তঃসারশূন্য, সেটাও ফের প্রমাণিত হল। এটাই হল মোদি সুশাসন— ভারতের সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি।