রায়পুর: উপলক্ষ্য ছিল সিআরপিএফ জওয়ানদের সঙ্গে দিওয়ালি পালন। কিন্তু সেখানে ফের একবার ‘দিমাগি নকশাল’ প্রসঙ্গ টানলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার সকালে ছত্তিশগড়ের বস্তারের করণপুরে সিআরপিএফের বিশেষ বাহিনী ‘কোবরা’র ক্যাম্পে যান তিনি। ক্যামোফ্লেজ পোশাক, হ্যাট পরিহিত, জওয়ানদের মধ্যে মিষ্টি বিলি... তারপরই ‘আক্রমণের চেনা ঢং’। একদা মাওবাদীদের ‘মুক্তাঞ্চল’ বলে পরিচিত বস্তারে দাঁড়িয়ে সেই ‘দিমাগি নকশাল’ খোঁচা। নিশানায় কারা?
আগেও একথা বলেছেন তিনি। লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে। সরাসরি জেন জি’কে টার্গেট করে। তখন আবহই ছিল আন্দোলনের। যন্তরমন্তরের। আর এবার ঠিক কী বলেছেন তিনি? দেশকে ‘মাওবাদী মুক্ত’ করে ফেলার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, ‘দেশ থেকে সশস্ত্র নকশালদের মুছে ফেলা সম্ভব হলেও, দিমাগি নকশালরা বিভিন্ন সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেও ঢুকে পড়েছে দিমাগি নকশালরা। আমাদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। তারা সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকানি দিয়ে চলেছে। এদের চিহ্নিত করে হারাতে হবে। দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
অর্থাৎ, একটা বিষয় স্পষ্ট—দিমাগি নকশাল প্রধানমন্ত্রী তো বটেই, বিজেপির দিমাগ থেকেও যায়নি। লালকেল্লা পর্বের পরই এই ‘তকমা’ লুফে নিয়ে আক্রমণ শুরু করে দিয়েছিলেন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা। কাকে বলা হচ্ছে দিমাগি নকশাল? বিরোধীদের দাবি, যে প্রশ্ন তুলছে, কিংবা যে বিরোধিতা করছে। সাম্প্রতিক কলকাতার এসআরএফটিআই থেকে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কিংবা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়—উদাহরণ ভূরি ভূরি। শনিবারও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত্ দিপকে কোচিতে অভিযোগ করেছিলেন, ‘যখনই ছোটরা রাস্তায় নামে, তখনই তাদের পিছনে পাকিস্তান, আমেরিকা রয়েছে বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়।’ প্রশ্ন উঠছে, এদিন কি তাহলে ফের জেন জি-দেরই নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী?
এদিন মোদির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগও তুলেছে। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘দিওয়ালির দিন অপমান করার জন্য দেশকেও ছাড়ছেন না প্রধানমন্ত্রী। একটি অরাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বাহিনীর পোশাক পরে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে কটু মন্তব্য করছেন। যাঁরা জাতিভিত্তিক জনগণনা চেয়েছিলেন, ২০২৪ সালে তাঁদের আরবান নকশাল বলেছিলেন উনি। ২০২৫ সালে আবার উনিই জাতিভিত্তিক জনগণনার ঘোষণা করেন।’ জয়রাম আরও লিখেছেন, ‘২০২০ সালেও তিনটি কৃষি আইনের বিরোধীদের নকশাল মানসিকতাসম্পন্ন বলেছিলেন মোদি। এক বছর পরেই ওই তিনটি কালা আইন বাতিল করা হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টতই বিচলিত, বিরক্ত এবং মরিয়া। ঝোলা তুলে ওঁর বিদায় নেওয়ার সময় দ্রুত ঘনিয়ে আসছে।’



