দেরাদুন: প্রায় ২৩ বছর আগের ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত উত্তরাখণ্ডের রাজনীতি। কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী হরক সিং রাওয়াতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে ফের সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জেনি নামে অসমের এক বাসিন্দা। নিজের ২৩ বছরের ছেলের পিতৃত্ব নিশ্চিত করতে নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হরক সিং। জেনি, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি মহেন্দ্র ভট্টের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
জেনির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেরাদুনের পুলিশ সুপার প্রমেন্দ্র সিং ডোভাল। শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে জেনি জানান, ২০০২ সালের অক্টোবর মাসে তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর। সেই সময় তিনি দেরাদুনে যমুনা কলোনিতে হরকের বাড়িতে প্রায় দু’মাস ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় তাঁকে ধর্ষণ করেন রাওয়াত। পরবর্তী সময়ে মহিলাদের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার কথা বলে তাঁকে একটি মানসিক হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার সময় জানা যায়, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। জেনির দাবি, তিনি হিন্দি ভাষা ঠিকমতো বুঝতে বা বলতে পারতেন না। ভাষাগত সমস্যার সুযোগ নিয়ে তাঁকে একাধিক নথিতে সই করানো হয়েছিল। কিন্তু সেগুলিতে কী লেখা ছিল, তা তাঁকে জানানো হয়নি। এমনকী, তাঁর তৎকালীন আইনজীবীও হরক সিংয়ের হয়ে কাজ করছিলেন বলে অভিযোগ জেনির। পালটা কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তিনি স্বেচ্ছায় মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। নিজেই সিবিআই তদন্ত এবং ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘অভিযোগকারিণী যদি এখনও সঠিক বিচার না পেয়ে থাকেন, তার দায়ভার তো বিজেপির। কারণ সেই সময় বিজেপির সরকার ছিল কেন্দ্রে।’



