Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘একতা মল’-এর নামে মোদি সরকারের আত্মপ্রচারের উদ্যোগ! প্রস্তুতি নিয়েও প্রকল্প থেকে সরে এল রাজ্য

প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘একতা মল’ বা ‘ইউনিটি মল’। এই খাতে বরাদ্দ হয়েছিল মোট পাঁচ হাজার কোটি টাকা

‘একতা মল’-এর নামে মোদি সরকারের আত্মপ্রচারের উদ্যোগ! প্রস্তুতি নিয়েও প্রকল্প থেকে সরে এল রাজ্য
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের সাধারণ বাজেট পেশের সময় দেশের প্রতিটি রাজ্যে একটি করে শপিং মল তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘একতা মল’ বা ‘ইউনিটি মল’। এই খাতে বরাদ্দ হয়েছিল মোট পাঁচ হাজার কোটি টাকা। প্রতিটি মলে সেই রাজ্যের নিজস্ব পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি সামগ্রীগুলির প্রচারও ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য। এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল! কেন্দ্রীয় সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজ্য সরকারও ‘ইউনিটি মল’ তৈরির উদ্যোগ নেয়। পূর্ব কলকাতায় ই এম বাইপাসের ধারে সেই প্রকল্প তৈরির জন্য জমি বরাদ্দও হয়। প্রশাসনিক কাজও এগিয়ে গিয়েছিল অনেকটা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের শর্তের গেরোয় ‘একতা মল’ তৈরি থেকে পিছিয়ে এল রাজ্য সরকার। প্রশাসনের কর্তারা বলছেন, শপিং মল তৈরি আসলে উপলক্ষ মাত্র! ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’-এর মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে প্রচারে আনাই শপিং মল তৈরির আসল উদ্দেশ্য। রাজ্য সরকারের আর্জি ছিল, বিশ্ববাংলা ব্র্যান্ডকেও সামনে রাখা হোক। তাতে রাজি হয়নি কেন্দ্র। তাই নরেন্দ্র মোদির আনা প্রকল্পগুলির প্রচারসর্বস্ব শপিং মল গড়তে আর আগ্রহী নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

Advertisement

‘ইউনিটি মল’ তৈরির মূল উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রক। তারাই রাজ্যগুলিকে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করতে বলে। জানানো হয়, যে রাজ্যে মল তৈরি হবে, সেখানকার প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দ করা হবে। পাশাপাশি ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ বা জিআই প্রাপ্ত পণ্যগুলির জন্যও রাখা হবে আলাদা জায়গা। সেই সঙ্গে প্রতিটি রাজ্য যাতে মলগুলিতে স্টল করতে পারে, সেই জায়গা বরাদ্দ করতে হবে। সেই মতো ই এম বাইপাসের ধারে একটি নামজাদা হাসপাতালের পাশে জায়গা চিহ্নিত করে হিডকো। সেখানে মল তৈরির প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয় রাজ্যের এমএসএমই দপ্তর। কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, পশ্চিমবঙ্গের জন্য  বরাদ্দ করা হবে ১৫৯ কোটি টাকা। তবে শর্ত একটাই। মলগুলি এমনভাবে তৈরি হবে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পগুলির উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকবে। অর্থাৎ, মানুষ যেন প্রতি মুহূর্তে টের পায় যে এটি আসলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকল্প। রাজ্যের দেওয়া জমি, মলের রক্ষণাবেক্ষণ ও যাবতীয় প্রশাসনিক উদ্যোগকে কোনওভাবেই সামনে আনা যাবে না।
দপ্তরের এক কর্তার কথায়, রাজ্য সরকার নিজেই প্রতিটি জেলায় একটি করে শপিং মল খুলছে, যেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পণ্য মিলবে। এর জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। রাজ্য চেয়েছিল, ‘একতা মল’-এও রাজ্যের ব্র্যান্ডিং হোক। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে সেই অনুমতি মেলেনি। তাছাড়া, কেন্দ্র যে একেবারে পক্ষপাতিত্ব না রেখেই এই উদ্যোগ নিয়েছে, তাও নয়। কারণ, কেন্দ্রীয় বাজেটে ঘোষণা হয়েছিল, প্রতিটি রাজ্যে একটি করেই ‘ইউনিটি মল’ হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ উত্তরপ্রদেশকে তিনটি মল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগ্রা, লখনউ ও মোদির নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসী। তা নিয়েও ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।        

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ