নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং তৎপরবর্তী অনিশ্চিত বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাবে রাজকোষের শক্তিও দোদূল্যমান। তাই মোদি সরকার এখন ব্যয়সংকোচের পথে। আগামী বছরের বাজেট প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই পর্বেই কেন্দ্রীয় সরকারের সব মন্ত্রকের কাছে লিখিতভাবে অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে যে, প্রত্যেক মন্ত্রক যেন এবার বাস্তবোচিত অর্থবরাদ্দের দাবি করে। অর্থাৎ যে অর্থ চলতি আর্থিক বছরে বিভিন্ন মন্ত্রক নিজেদের বিভিন্ন বিভাগের জন্য ব্যয় করছে, সেটা হিসাব করে পাঠানো হোক আগামী বছরের ব্যয়বরাদ্দ। দু’টি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। প্রত্যেক বছরই অতিরিক্ত ব্যয়বরাদ্দ করতে হয়। আবার এটাও দেখা যায় যে, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে পারেনি অনেক মন্ত্রক। এই ভারসাম্যহীনতায় বিরক্ত অর্থমন্ত্রক। রাজকোষের হাল ভালো নয়। অর্থনীতির উজ্জ্বলতার কথা যতই প্রচারে বলা হোক, আদতে অর্থনীতি থমকে গিয়েছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ঘাটতি কমছে না। এমতাবস্থায় প্রত্যেক মন্ত্রককে বলা হয়েছে, বুঝেশুনে যেন বাজেট চাওয়া হয়। চলতি আর্থিক বছরের বাজেটে যত টাকা আয় হওয়ার কথা ছিল সেই লক্ষ্যমাত্রার ২৮ শতাংশ পূরণ হয়েছে। আর যত টাকা ব্যয় করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল সেটি প্রকৃতপক্ষে হয়েছে ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি পূরণ হয়েছে। গোটা বছরের জন্য ব্যয়বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৫৩ লক্ষ কোটি টাকা। আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। প্রায় ১৭ লক্ষ কোটি টাকা বাজেট ঘাটতি। এই ঘাটতি বেড়ে যাবে না তো? এই আশঙ্কা ও উদ্বেগে ভুগছে অর্থমন্ত্রক। বরাদ্দকৃত অর্থ যেমন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খরচ করতে বলা হচ্ছে প্রত্যেক মন্ত্রককে, তেমনই ভরতুকির জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল, সেটি দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ সার ভরতুকির জন্য ধার্য হয়েছে। খাদ্য ভরতুকি বাবদ ব্যয়বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ২ লক্ষ ২৮ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এখন থেকে প্রবণতা দেখে অর্থমন্ত্রক বুঝতে পারছে এই লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে যাবে। আড়াই লক্ষ কোটি টাকা খাদ্য ভরতুকি হতে চলেছে। অর্থাৎ সাধারণ গরিব মানুষ অনেক বেশি করে রেশনের বিনামূল্যে খাদ্য গ্রহণ করছে। যা স্পষ্টতই মূল্যবৃদ্ধির চাপের প্রমাণ। এই চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা। কারণ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বারংবার বলেছে, মূল্যবৃদ্ধি কমবে না। বরং আরও বাড়বে। সুতরাং খাদ্য ভরতুকির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।



