নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্রেফ ভোটাধিকার নয়। নাগরিকদের অধিকারও কেড়ে নিতে চায় মোদি সরকার। শুক্রবার এভাবেই আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অধিকার কেড়ে নিতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে বলেই অভিযোগ করেছেন তিনি। গণতন্ত্র হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছে বলেও তোপ দেগেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে মুখোমুখি বিতর্কসভায় বসার যে চ্যালেঞ্জ রাহুল ছুড়েছেন, তারও পারদ চড়িয়ে মোদিকে কোণঠাসা করতে নেমেছে কংগ্রেস।
রাজধানীর রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে হোর্ডিং। লেখা, ‘কিঁউ মোদিজি? ডর গয়া কেয়া?’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি ব্যবহার করা দেখানো হয়েছে, একদিকে রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের নিয়ে দরজা ঠেলে ঢুকতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে। অন্যদিকে তা আটকাতে মরিয়া মোদি, নীতিন গাদকারি, শিবরাজ সিং চৌহান এবং যোগী আদিত্যনাথ। অমিত শাহর ছবি সেখানে নেই। কংগ্রেসের প্রশ্ন, একসময় সংসদে দাঁড়িয়েই যেখানে অমিত শাহ বলেছেন, এসআইআর নিয়ে সংসদে চর্চা করা যায় না। তাহলে এখন কেন জনসভায় দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, সংসদেই বিতর্ক হতে পারে। অন্য কোথাও নয়? তাই রাহুল কটাক্ষের ভিডিও জারি করে বলেছেন, পুরো বিজেপি বিপাকে।
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আধার কার্ড চলবে না। থাকতে হবে ভোটার পরিচয়পত্র। সম্প্রতি এমনই ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য করেছেন পঞ্চায়েতিরাজমন্ত্রী তথা জেডিইউ নেতা রাজীবরঞ্জন সিং লালন। ভিডিও ভাইরাল হতেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি লোকসভার বিরোধী দলনেতা। রাহুল বলেছেন, ‘গভীর ষড়যন্ত্র। এসআইআরের নামে কোটি কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে আগামী দিনে আরও বহু মানুষের নাম কেটে দেওয়া হবে। প্রস্তুতি চলছে এমন একটি ভোটার তালিকা তৈরির, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিজেপির পক্ষেই থাকবে। আর সেই তালিকাই ঠিক করবে আপনি সরকারি প্রকল্পের টাকা পাবেন কি না।’
রাহুলের প্রশ্ন, আজ পঞ্চায়েতিরাজের প্রকল্প। ভবিষ্যতে কি রেশন? পেনশন? মনরেগা? আবাস যোজনা? বৃত্তি? সংরক্ষণ? ফলে এটা শুধুমাত্র নির্বাচনে জেতার রাজনীতি নয়, বরং নির্বাচন চুরি করে ক্ষমতায় টিকে থাকার স্থায়ী ব্যবস্থা। ভোট দেওয়া নাগরিকদের অধিকার, কোনো শর্তসাপেক্ষ সুবিধা নয়। কোনো দরিদ্র মানুষের পেনশন তাঁর ভোটার কার্ডের অধীন হতে পারে না। ফলে এটা শুধু ভোট চুরি নয়। মানুষের অধিকার চুরি। কিছুতেই এটা হতে দেব না।
ভোট চুরির অভিযোগ চড়িয়ে রাহুল আরও বলেছেন, ভোটার তালিকা থাকা উচিত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের হাতে। কিন্তু এখন সেই তালিকা রয়েছে মোদি সরকারের এক কর্মচারী জ্ঞানেশ কুমারের হাতে। বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে ভোট চুরির প্রমাণ সামনে এনেছি। এমনই ভোটার তালিকা তৈরির প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা সবসময় বিজেপি থাকবে। আর এখন সেই তালিকাই ঠিক করবে কেউ সরকারি প্রকল্পের টাকা পাবেন কি না। রাহুলের অভিযোগ, কেউ যদি বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে বেছে বেছে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। নাম বাদ গেল তো ভোটাধিকার গেল। ভোটাধিকার গেল—নিজের অধিকারও গেল। রাহুলের তোপ, জনগণ আর সরকার নির্বাচন করবে না। বরং সরকারই ঠিক করবে কারা হবে তার জনগণ!



