নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনে তৃণমূল ‘সদস্যদের’ সমর্থনের ট্রাক ভরতি করে নথির পাহাড় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা জমা করলেও তার কোনো গুরুত্ব নেই। শুক্রবার দাবি করল মমতাপন্থী তৃণমূল। ডেরেক ও’ব্রায়েন জানিয়ে দিলেন, ‘আমরাও পালটা কাগজ জমা দিতে তৈরি। আমাদের কাছে যাবতীয় নথি রয়েছে। যেখানে বার বার প্রমাণ হয়ে যাবে যে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই।’ ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দলের প্রতীক এবং মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে মমতাপন্থী তৃণমূলকে জবাব দিতে হবে।
তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হলেও অরূপ রায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা এখন বিক্ষুব্ধ। মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকতে চান না বলেই তাঁরা বিদ্রোহী। দলের প্রকৃত দাবিদার তাঁরাই, এমন দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন অরূপ-ঋতব্রতরা। পালটা দাবিতে উদ্যোগ নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। জুন মাস থেকে চলছে বিবাদ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো দুপক্ষই এখন নির্বাচন কমিশনে নিজেদের দাবির পক্ষে নথি জমা করছেন।
ঋতব্রতরা কয়েক ট্রাক ভর্তি নথি জমা করলেও সদস্যদের এফিডেভিটের আসল কপি (হার্ড কপি) জমা করার ক্ষেত্রে ছাড় চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন বলেই কমিশনের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে। ঋতব্রতর সই করা কমিশনে দেওয়া ছ’পাতার চিঠিতে এও বলা হয়েছে, আসল কপি দিলে তা জানতে পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এফিডেভিটের মাধ্যমে সমর্থন দেওয়া সমর্থকদের হেনস্থা করতে পারে। বিষয়টি জানতে পেরে মমতাপন্থী তৃণমূলের বক্তব্য, সদস্যদের সমর্থনের চিঠি বা নথিতে দলের মালিকানা দাবি করা যায় না। সাংসদ, বিধায়ক এবং দলের ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যদের সমর্থন প্রয়োজন হয়। তৃণমলের দলীয় সংবিধানে সেটাই বলা আছে। অথচ সেটি ঋতব্রতদের কাছে নেই।
এমনকি মমতাপন্থী তৃণমূলের এমনও দাবি, তৃণমূলের ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন ঋতব্রতদের সঙ্গেও নেই। নেই কোনো সাংসদও। সুদীপ-কাকলিরা বিক্ষুব্ধ হলেও তাঁরা এনসিপিআই। ফলে কীসের জোরে ঋতব্রতরা দাবি করছেন তৃণমূল তাঁদের? প্রশ্ন ডেরেকের। এখন দেখার, জ্ঞানেশ কুমারের নির্বাচন কমিশন কী নেয় সিদ্ধান্ত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী তাদের বক্তব্য জমা দেওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।



