নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকারি সংস্থা ও সম্পদ বিক্রি করে রাজকোষে কত টাকা সংগ্রহ করা হবে? বাজেটে বিগত বছরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ২০২৫ সালের বাজেটে ছিল ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এবার হয়েছে ৮০ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘোষণা থেকেই স্পষ্ট যে, সরকারি সংস্থার বেসরকারিকরণের জন্য ২০২৬ সালে মরিয়া হয়ে ঝাঁপাবে সরকার। আর নতুন আর্থিক বছর এখনও শুরু হতে দেড় মাস বাকি। এরই মধ্যে প্রথম সরকারি ব্যাঙ্কের বিক্রির প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়ে গেল। তালিকায় ছিল অনেক আগে থেকেই। কিন্তু বিভিন্ন কারণে অগ্রসর হতে পারেনি সরকার। এবার সেই আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বিক্রি হওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। দরপত্র জমা পড়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছিল, ফেয়ারফ্যাক্স ইন্ডিয়া হোল্ডিং এবং কোটাক মাহিন্দ্রা আপাতত দৌড়ে এগিয়ে। তবে কোটাক মাহিন্দ্রা এদিন বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ওই অধিগ্রহণে কোনো দরপত্র দেয়নি। এর আগে এমিরেটস এনবিডি নামক সংস্থা আগ্রহ দেখালেও গত বছর ওই সংস্থা আরবিএল ব্যাঙ্ক অধিগ্রহণ করায় আর তারা আইডিবিআই নিয়ে অগ্রসর হয়নি। প্রসঙ্গত আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ভারত সরকারের কাছে। ৩০ শতাংশ সরাসরি সরকারের হাতে। বাকি ৩০ শতাংশ জীবনবিমা নিগমের কাছে। অর্থমন্ত্রকের অধীনে থাকা ডিপার্টমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট স্থির করেছিল এই ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ দ্রুত হবে। ২০২৩ সালে একাধিক ক্রেতা আগ্রহী হয়। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারের কাছে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের অংশের মূল্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা। একবার যখন আইডিবিআই বিক্রি করা হয়ে যাবে, তখন আসবে পরবর্তী প্রক্রিয়া। অর্থাৎ দেশের ১২টি সরকারি ব্যাঙ্ক, বিমান সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার তালিকা তৈরি হবে নতুন করে। অর্থাৎ কোনগুলিকে রাখা হবে, কোনগুলির হবে সংযুক্তিকরণ এবং বাকিগুলি বিক্রি। এই তালিকা তৈর করে ২০২৯ সালের মধ্যেই বৃহৎ বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।



