কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: বাংলায় চালু কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির হাল হকিকত কী? ভোটের আগে তার ঠিকুজি-কোষ্ঠী চাইছে দিল্লি। বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বিরোধ যখন চরমে তখন কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একশো দিনের কাজ, গ্রামে রাস্তা ও আবাস প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দ কয়েকবছর যাবৎ বন্ধ। ভোটের আগে রাজ্যে অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাদ্দ ছাঁটাই বা বন্ধ করার জন্যই কি এই উদ্যোগ? উঠেছে সংগত প্রশ্ন। রেল, সড়ক পরিবহণসহ কয়েকটি মন্ত্রক রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে তাদের প্রকল্পগুলি রূপায়ণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলেছে।
সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের দেড় মাসও দেরি নেই। পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির অবস্থা সম্পর্কে তার আগে জরুরি ভিত্তিতেই তথ্য তলব করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার প্রকল্পগুলির বরাদ্দ ছাঁটাই হবে কি? তা ওই রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে বলেই নবান্নের অনুমান।
পশ্চিমবঙ্গের প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্যাদি নেবে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। এই ব্যাপারে ১৭ ডিসেম্বর বিভাগীয় যুগ্মসচিব অমিত শুক্লর স্বাক্ষর সংবলিত একটি অফিস মেমোরান্ডাম ইস্যু করা হয়েছে। এটি ইস্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে সবার আগে। পশ্চিমবঙ্গে চালু কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও কর্মসূচি সম্পর্কেই এই মেমোরান্ডাম ইস্যু ও আপডেট। তারপরেই প্রকল্প ও কর্মসূচি রূপায়ণের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চাওয়া হয়েছে। ইমেল করতে হবে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে।
মেমোরান্ডামটি পৌঁছেছে মোট ১৩টি মন্ত্রক/বিভাগে। সেগুলি হল—রেল, সড়ক পরিবহণ, এমএসএমই, খাদ্য ও সরবারহ, বন ও পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস, টেলি যোগাযোগ, কয়লা, স্কুলশিক্ষা এবং অর্থমন্ত্রকের খরচ সংক্রান্ত শাখা। রিপোর্ট দিতে হবে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দুই যুগ্মসচিবকেও।
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান, যেসব কেন্দ্রীয় মন্ত্রক বাংলাকে সর্বাধিক বঞ্চনা করছে, রাজ্যের প্রকল্পগুলি সম্পর্কে রিপোর্ট জোগাড় করার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদেরকেই। এটা উদ্বেগজনক। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, আগামী দিনে কেন্দ্রীয় বা কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পে বাংলায় আরও বড় কোপ দিতেই দিল্লির এই অতিতৎপরতা নয় তো?
রাজনৈতিক মহলের মত, ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। রাজ্যের জন্য কেন্দ্র কত বরাদ্দ করেছে বা কত কাজ রাজ্যে হচ্ছে, তার খতিয়ান তুলে ধরে রাজ্যে ভোটের প্রচারে নামতে পারেন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা।