


নয়াদিল্লি: মুখে আম আদমির কল্যাণের কথা বলে থাকে মোদি সরকার। তবে কার্যক্ষেত্রে তার প্রয়োগ দেখা যায় না। এই অভিযোগ বহুদিনের। এবার পেনশন প্রকল্প নিয়েও কেন্দ্রের একই রকম মনোভাবের প্রমাণ মিলল। জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে (এনএসএপি) বর্ধিত পেনশন এবং নতুন করে গ্রাহক অন্তর্ভুক্তি বাবদ ব্যয় রাজ্যগুলির উপরই চাপিয়ে দিল মোদি সরকার। ওই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে প্রবীণ নাগরিক, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষমরা (দিব্যাঙ্গ) আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। মোদি সরকার আসার আগে, ২০১২ সালে শেষবার উপভোক্তা অন্তর্ভুক্তি হয়েছিল। সেইসঙ্গে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে ব্যক্তিপিছু ২০০-৩০০ টাকা করা হয়। তারপর জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। যোগ্য উপভোক্তার সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু কেন্দ্র এসবের দায়ভার নিতে নারাজ। রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার ২০০-৩০০ টাকাই দেবে। অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকেই।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা প্রশ্ন তোলেন, পুরানো এবং অসম্পূর্ণ নথির কারণে কত মানুষ বর্তমানে এনএসএপি-র আওতার বাইরে? উত্তরে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কমলেশ পাসোয়ান জানান, ‘তালিকায় আরও গ্রাহক অন্তর্ভূক্তি এবং অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের স্বাধীনতা রয়েছে রাজ্যগুলির। নিজস্ব তহবিল থেকে রাজ্যগুলি একাজ করতেই পারে। র্দিষ্ট সময় অনুযায়ী এই তালিকার সংশোধন করতেই হবে, এমনটা আইনের কোথাও লেখা নেই।’ মন্ত্রীর উত্তর থেকেই এনএসএপি-র দায়ভার রাজ্যগুলির উপর চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রের মনোভাব স্পষ্ট হয়ে যায়।
দারিদ্রসীমার নীচে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্যই এনএসএপি চালু করা হয়েছে। এর অধীনে তিনটি বিভাগে রয়েছে আর্থিক সহায়তার সংস্থান। প্রথম বিভাগে ৬০ থেকে ৭৯ বছর বয়সিদের মাসে ২০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিভাগে ৪০ ঊর্ধ্ব বিধবারা এবং বিশেষভাবে সক্ষমরা মাসে ৩০০ টাকা করে পান। গ্রাহকদের বয়স ৮০ পার করলে তৃতীয় বিভাগে তাঁদের ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়। ২০১২ সালে বয়স্কদের পেনশনের পরিমাণ ৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়। এখন ৩ কোটি ৯ লক্ষ গ্রাহক এই প্রকল্পে উপকৃত। রাজ্যওয়াড়ি গ্রাহকের সংখ্যাও বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। তবে রাজ্যগুলির তহবিল থেকে ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ গ্রাহক আর্থিক সহায়তা পান। এনএসএপি-র আর্থিক অঙ্ক এবং গ্রাহক না বাড়ানোয় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনীতিবিদ দীপা সিনহা বলেন, ‘এই প্রকল্পের গ্রাহকরা রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্তরবিন্যাসে সবচেয়ে দুর্বল। তাই কেন্দ্রীয় সরকার তাদের ক্রমাগত রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছে।’