Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

ভোটে ইস্যু হতে পারে গ্যাসের সংকট, উদ্বেগে মোদি সরকার, বিপদের সময় রাজনীতি করবেন না: নাড্ডা

ভোটের প্রাক্কালে রাজনৈতিকভাবে ব্যাকফুটে বিজেপি ও মোদি সরকার। কারণ এলপিজি সংকট। যদি আগামী এক মাসের মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ না থামে এবং হরমুজ প্রণালী এভাবেই অনিশ্চিত অবস্থানে রয়ে যায়, তাহলে রান্নার গ্যাসের হাহাকার আরও তীব্র হবে।

ভোটে ইস্যু হতে পারে গ্যাসের  সংকট, উদ্বেগে মোদি সরকার, বিপদের সময় রাজনীতি করবেন না: নাড্ডা
  • ১৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোটের প্রাক্কালে রাজনৈতিকভাবে ব্যাকফুটে বিজেপি ও মোদি সরকার। কারণ এলপিজি সংকট। যদি আগামী এক মাসের মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ না থামে এবং হরমুজ প্রণালী এভাবেই অনিশ্চিত অবস্থানে রয়ে যায়, তাহলে রান্নার গ্যাসের হাহাকার আরও তীব্র হবে। সেক্ষেত্রে পাঁচ রাজ্যের ভোটে বিরোধীদের হাতে বড়সড় অস্ত্র এসে যাবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলি থেকে কেন্দ্রীয় বিজেপির কাছে উদ্বেগবার্তা আসছে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। কেন্দ্র যতই বলুক কোনো সমস্যা নেই, রাজ্যে রাজ্যে জেলাগুলিতে এলপিজির লাইন ক্রমেই বাড়ছে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীরাও মোদি সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরছে। বিজেপির উদ্বেগের আঁচ পড়েছে সংসদের অন্দর ও বা‌ইরেও।

Advertisement

সোমবার জ্বালানি সংকট নিয়ে রাজ্যসভায় তীব্র বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস এবং বিজেপি। এমনকি এ বিষয়ে বক্তব্য পেশের সময় রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস সাংসদরা। জিরো আওয়ারে জ্বালানি সংকট নিয়ে মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, সারা দেশেই গ্যাস সিলিন্ডার পেতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে আগেভাগেই পরিকল্পনা করে রাখতে হয়। যাতে এর কোনো প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর না পড়ে। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার তা করেনি। গ্যাস বুকিংয়ের সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে এই সময়সীমা শহরের থেকেও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে সাধারণ মানুষের রীতিমতো নাজেহাল পরিস্থিতি। খাড়্গের অভিযোগ, সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়ামমন্ত্রী ঘোষণা করছেন যে, সারা দেশে নাকি কোনো জ্বালানি সংকটই নেই। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি মোটেও তা নয়। খাড়্গে যখন রাজ্যসভায় এবিষয়ে সরব হয়েছেন, তখন তাঁর পাশের আসনেই বসেছিলেন সোনিয়া গান্ধী। খাড়্গের এহেন মন্তব্যেই তেড়েফুঁড়ে ওঠেন বিজেপি সাংসদরা। রাজ্যসভার নেতা জে পি নাড্ডা বলেন, সংকট থাকুক বা না থাকুক, এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্র কোনোমতেই দায়ী নয়। যুদ্ধের জন্য কি ভারত দায়ী? বিরোধীরা মানুষকে প্ররোচনা দিচ্ছে। রাজনীতি করছে। এরকম বিপদের সময় রাজাীনতি করবেন না। 
অন্যদিকে, পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বলেছেন, পেট্রল ডিজেল নিয়ে ভারতের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। তবে রান্নার গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ অবশ্যই আছে। তার মধ্যেই ইতিবাচক হল, প্যানিক বুকিং কমেছে। অনলাইনে বুকিং অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। মানুষ বুঝতে পারছে যে অযথা আতঙ্কিত হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে লাভ নেই। বিধিমতোই এলপিজি দেওয়া হবে। এদিকে সরকার দিল্লিতে বসে নানাবিধ আশ্বাসের কথা শোনালেও এলপিজি সংক্রান্ত হেল্পলাইন কোনও কাজ করছে না বলে বিভিন্ন রাজ্য থেকে খবর আসছে। কাস্টমার কেয়ার সেন্টারও বহু ক্ষেত্রে অচল। যদিও পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের সবথেকে বড় উদ্বেগ হল, হরমুজ প্রণালীতে ২৬টি জাহাজ এখনও আটকে। তার মধ্যে তেল, এলপিজিও ভর্তি জাহাজও আছে। দুটি এলপিজি ভর্তি ট্যাংকারকে ইরান ছাড় দিলেও এগুলি নিয়ে নীরব। ভারতে এলপিজি স্টক কতদিনের  মতো আছে? পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব বলেছেন, সেটা এখন বলতে পারব না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ