নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্ক স্ট্রিটের ভারতীয় জাদুঘরে প্রবেশ করলেই এখন দেখা যাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড়ো বড়ো কাটআউট। কাটআউটে ফুটে উঠেছে বাল্যকালের প্রধানমন্ত্রীর হাতে চায়ের কাপ। আবার কখনও তিনি অযোধ্যার রামমন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে। জাদুঘরের কোনও সাদা থামের পাশে মোদির কাটআউট চন্দ্রযানের ছবির পাশে দাঁড়িয়ে। এরকমভাবেই মোদির জীবনের সাফল্য, প্রকল্প, সব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনে এমন একটি প্রদর্শনী চলবে রবিবার পর্যন্ত। উদ্বোধন করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং অন্য নেতারা। সরকারি জায়গায় কেন হবে প্রধানমন্ত্রীর প্রদর্শনী? প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
প্রশ্ন উঠেছে আরও একটি, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে প্রদর্শনী হচ্ছে তাও আবার কলকাতায়। কিন্তু বাংলায় একটিও শব্দ লেখা নেই । তৃণমূল বলছে, বিজেপি যে বাংলা-বিরোধী তা বোঝা যাচ্ছে। মোদির বাল্যকাল কেমন ছিল, জরুরি অবস্থার সময় কীভাবে তিনি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, এসবই লেখা হিন্দিতে। তুলে ধরা হয়েছে উরি সার্জিকাল স্ট্রাইক, মিশন সাগর, বালাকোট, সিন্দুরের জয়গাথাও। সবটাই মোদির কাটআউটকে সামনে রেখে। তাহলে কি ২০২৬ সালের ভোটের আগে একেবারে সরকারি খরচে প্রচার হয়ে গেল? তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘জাদুঘরের মতো ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানকে অপব্যবহার করছে বিজেপি। কেন্দ্রের ক্ষমতায় আছে বলে যা ইচ্ছে তাই করছে। আসলে বিজেপি বাংলা থেকে বিদায়ের পর জাদুঘরেই স্থান পাবে, আগে থেকে সেই জায়গাটা চিহ্নিত করে নিয়েছে।’ একযোগে আক্রমণ করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ‘জাদুঘর সারা এশিয়ার গর্ব। এই সরকার সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। নেতাজির জন্মদিন শুরু করেছিল ভিক্টোরিয়া থেকে। এবার মিউজিয়ামে মোদির জন্মদিন। ধীরে ধীরে হনুমানজয়ন্তীতে চলে যাবে।’
কটাক্ষ করেছেন সিপিআই লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘সঙ্ঘের নিয়ম অনুযায়ী তো এদিন তাঁর পদত্যাগ করার কথা। আর আজই তাঁকে মিউজিয়ামে নিয়ে গেল?’-নিজস্ব চিত্র