গোথেনবার্গ (সুইডেন): পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপ সফরের তৃতীয় পর্বে সুইডেনে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার লক্ষ্যেই তাঁর এই সফর। রবিবার সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে মোদির। দু’দিনের সফরে গোথেনবার্গ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০১৮ সালে প্রথম ভারত-নর্ডিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সুইডেন সফরে এসেছিলেন মোদি। প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দু’পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিবিধ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২৫ সালে ৭.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বৈঠকে এই ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন পথ উদ্ভাবনের বিষয়টি নিয়েও কথা হয়।
এর আগে নেদারল্যান্ডস সফরে বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন মোদি। শনিবার হেগ শহরে অনাবাসী ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, চলতি দশকের শুরুতে প্রথমে এল করোনা মহামারী। তারপরই শুরু হল একের পর এক যুদ্ধ। আর এখন জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। চলতি দশক বিশ্বের কাছে বিপর্যয়ের দশকে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন না হলে, বিশ্বের জনসংখ্যার বিপুল অংশ আবারও দারিদ্রের ফাঁদে আটকা পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। মোদি আরও বলেন, একের পর এক ধেয়ে আসা সংকটগুলিকে যদি জরুরি ভিত্তিতে প্রতিহত করা না যায়, তাহলে দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এতদিন ধরে যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি হয়েছে, তা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বিশ্বের বিপুল সংখ্যক মানুষ ফের দারিদ্রে ডুবে যেতে পারে। ওই অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, ‘যখনই কল্যাণকর কোনো প্রযুক্তি ও ব্যবস্থার আবিষ্কার হয়েছে, তার সুবিধা গোটা মানবজাতি পেয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে মানবজাতি একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। প্রথমে এল করোনা মহামারী। তারপরই শুরু হল একের পর এক যুদ্ধ। আর এখন জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে।’