নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটানিক দাবি করছেন, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বহু চর্চিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা একপ্রকার নেই বলেই ধরে নেওয়া যায়। কারণ কী? লুটানিক বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তি নিয়ে একবারও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেননি। চুক্তি চূড়ান্তই হয়ে যেত। কোনও প্রক্রিয়াগত, শর্তভিত্তিক অথবা বাণিজ্য সুবিধা-অসুবিধা সংক্রান্ত জটিলতাই ছিল না। কিন্তু চুক্তি না হওয়ার কারণ, মোদি কেন ফোন করলেন না ট্রাম্পকে? মার্কিন বাণিজ্য সচিবের এই বিস্ময়কর ও অভিনব দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের পথে, এরকম ভারত মনে করছে না। আর মার্কিন বাণিজ্য সচিব যে যুক্তি দিয়েছেন সেটিও অসত্য। মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত ও আমেরিকা। বহুবার হয়েছে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যাচ্ছিল। আবার কোনও একটি শর্তের কারণে টানাপোড়েন শুরু হয়। ফের পিছিয়ে যায় চূড়ান্ত চুক্তি। এই প্রক্রিয়া যে কোনও চুক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বিদেশ মন্ত্রক বলেছে,ভারত এখনও ওই চুক্তিতে আগ্রহী। সরকার মোটেই মনে করে না যে, চুক্তির পথ প্রায় সমাপ্ত। ভারত এই দাবি করলেও, আমেরিকা কিন্তু স্পষ্ট বলেছে যে, তাদের আর এই চুক্তিতে আগ্রহ নেই। ট্রাম্প সরকারের বাণিজ্য সচিব বলেছেন, যেহেতু ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনও ফোন পেলেন না, তাই আমাদের মনে হয়েছে, এই চুক্তি নিয়ে ভারত এগতে চায় না। আর এই কারণেই আমরা অন্য দেশগুলির সঙ্গে চুক্তি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমেরিকা এখন ওই দেশগুলির সঙ্গে চুক্তি করা নিয়ে ব্যস্ত। লুটনিক বলেছেন, তিনি নিজেই নাকি ভারতকে বলেছিলেন যে, মোদি যেন একবার ট্রাম্পকে ফোন করেন। কিন্তু ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মোদি সেটা করবেন বলে মনে হয় না। সুতরাং মোদি সত্যিই ফোন করেননি। যদিও রণধীন জয়সওয়াল এদিন স্পষ্টই বলেন, ২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আটবার ফোনে কথা হয়েছে। প্রতিবারই দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন।



