Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

রাশিয়ার থেকে আর জ্বালানি তেল কিনবে না ভারত এমন প্রতিশ্রুতি দেননি মোদি, ট্রাম্পের করা সমস্ত দাবি ওড়াল কেন্দ্র

বিস্ফোরক দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রাশিয়ার থেকে আর জ্বালানি তেল কিনবে না ভারত এমন প্রতিশ্রুতি দেননি মোদি, ট্রাম্পের করা সমস্ত দাবি ওড়াল কেন্দ্র
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:১০
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন, ১৬ অক্টোবর: বিস্ফোরক দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ, বুধবার (স্থানীয় সময়), মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে রাশিয়া থেকে তাঁরা আর জ্বালানি তেল কিনবে না। ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘উনি আমায় আজ আশ্বাস দিয়েছেন যে, রাশিয়া থেকে তাঁরা আর তেল কিনবেন না। আমরা চাই চীনও একই পথে হাঁটুক। মোদি আমার বন্ধু। একজন ভালো মানুষ। আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক রয়েছে।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এরপর এদিন সন্ধ্যার পর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র জানায়, গতকাল আমেরিকায় না কী কোনও ফোন করাই হয়নি। এমনকী রাশিয়ার থেকে আর তেল কিনবে না ভারত এমন প্রতিশ্রুতিও দেননি মোদি। ফলে কার্যতই ট্রাম্পের করা সমস্ত দাবি ওড়াল কেন্দ্র। 

Advertisement

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন, তাহলে কী ট্রাম্পই ভারতের বিদেশ ও ব্যবসায়িক নীতি স্থির করে দেবেন? ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন। ‘মোদি ট্রাম্পের ভয়ে ভীত’, বলে কটাক্ষ রাহুলের। রাশিয়ার থেকে জ্বালানি তেল ভারত কিনছে বলে মস্কোর অর্থনীতি মজবুত হচ্ছে। তাই ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ছিল ট্রাম্পের যুক্তি। সেই কারণেই ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। সেই শুল্ক কমানো নিয়ে লাগাতার বৈঠক হলেও কোনও সুরাহা মেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার থেকে ভারত তেল কিনতে পারবে না। সেইমতোই দেখা যাচ্ছে, রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানিতে রাশ টেনেছে ভারত! সাম্প্রতিক তথ্যে কিন্তু এমনই ইঙ্গিত মিলছে। বাণিজ্যিক জাহাজের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুসারে, গত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রুশ তেল ক্রয়ের পরিমাণ ৪৫ শতাংশের বেশি ছেঁটে ফেলেছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি। সংস্থার এক বিশেষজ্ঞ নবীন দাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চলতি বছরে ওই সংস্থাগুলি দৈনিক ১১ লক্ষ ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে কিনেছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরে তা কমে হয়েছে দৈনিক ৬ লক্ষ ব্যারেল।

চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এই কাটছাঁট কেন? তবে কী ট্রাম্পের কাছে মাথা নোয়াচ্ছে মোদি সরকার? প্রশ্ন উঠছে। এর মাঝেই ট্রাম্পের দাবিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যার ভিত্তিতে উত্তর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আজ, বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ‘ভারত যথেষ্ট পরিমাণ তেল এবং গ্যাস আমদানি করে থাকে। বিশ্বে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার আবহে ভারতের ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাকেই আমরা বরাবর অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। আমাদের জ্বালানি তেল আমদানি সংক্রান্ত নীতি এই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখেই পরিচালিত হয়।’

রাশিয়াও ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জবাব দিয়েছে। ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত ডেনিস আলিপোভ জানিয়েছেন, ভারত সরকার এর উত্তর দেবে। তবে আমি জানি, দেশের স্বার্থই আগে ভাববে ভারত। জ্বালানি খাতে আমাদের সহযোগিতা ভারতের সেই স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ এছাড়া আজ, বুধবার ফের ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধ থামানো নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। সঙ্গে এতগুলি যুদ্ধ থামিয়ে নোবেল না পাওয়ায় আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

সম্পর্কিত সংবাদ