আমেদাবাদ: ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দেখেছে দেশ ও বিশ্ব। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার সকালেই নরেন্দ্র মোদি পৌঁছে যান আমেদাবাদে। প্রথমে বি জে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন তিনি। তারপর যান সিভিল হাসপাতালে। সেখানে বিমান আছড়ে পড়ার জেরে গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি অন্তত ২৫ জন মেডিক্যাল পড়ুয়া। অভিশপ্ত বিমানের একমাত্র জীবিত যাত্রী বিশ্বাস কুমার রমেশও সেখানে চিকিৎসাধীন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির পরিবারের সঙ্গেও তিনি দেখা করেন। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘আমি গভীরভাবে শোকাহত। এক আকস্মিক ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণ চলে গিয়েছে। এমন ভাবে মানুষের মৃত্যু সহ্যের বাইরে। আমি নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। আমি তাঁদের কষ্ট বুঝতে পারছি। এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।’
এদিন সকালে দুর্ঘটনাস্থলে প্রায় ২০ মিনিট ছিলেন মোদি। ঘুরে দেখেন বিমানের ধাক্কায় ধ্বংস হওয়া মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলটি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিল সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। এরপর আহতদের দেখতে তাঁরা যান সিভিল হাসপাতালে। হাসপাতালের সি৭ ওয়ার্ডে ভর্তি আহতদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা মোদিকে জানান রমেশ। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। ভারতে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর দাদার সঙ্গে ব্রিটেনে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর দাদার।
বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির। এদিন তাঁর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করে সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘বিজয় রূপানিজি ছিলেন অত্যন্ত নম্র, পরিশ্রমী ও দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটা কল্পনা করা যায় না, বিজয়ভাই আমাদের মাঝে আর নেই। আমি তাঁকে কয়েক দশক ধরে চিনতাম। আমরা একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও নিরলস কাজ করে গিয়েছেন।’ এদিন বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও গুজরাতের সরকারের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। আধিকারিকদের কাছ থেকে দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাঁদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেন।