নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গঙ্গা লাগোয়া একাধিক ফেরিঘাটে বহু আগেই স্মার্ট গেট বসেছে। কোথাও নতুন ফেরিঘাট তৈরি হয়েছে। কিন্তু নবনির্মিত ফেরিঘাটগুলি বেশ কয়েক বছর আগে উদ্বোধন হয়ে গেলেও আজও চালু হয়নি। পাশে থাকা পুরনো ফেরিঘাট দিয়েই যাত্রী চলাচল করে। আর স্রেফ পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে স্মার্ট গেট। বৃহস্পতিবার ডব্লুবিটিসি’র ময়দান টেন্টে এ বিষয় নিয়ে পরিবহণ দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে বিভিন্ন পুরসভার চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বলা হয়েছে, অবিলম্বে সবকটি ফেরিঘাট চালু হবে। আর স্মার্ট গেট দ্রুত চালু না করলে তা অন্য ফেরিঘাটে স্থানান্তর করা হবে।
জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন ফেরিঘাটের পরিকাঠামো উন্নয়নে লাগাতার কাজ করছে রাজ্য সরকার। মেট্রোর মতো স্মার্ট গেট বসানো হয়েছে। বহু জায়গায় তা চালু। কিন্তু অনেক জায়গায় চালু করা হয়নি। নেশাড়ুরা রাতে ফেরিঘাট থেকে সামগ্রী চুরি করে। যেমন পানিহাটি ফেরিঘাট ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে উদ্বোধন হয়েছিল। কিন্তু কেবল ‘দইচিঁড়ে’ উৎসবের কয়েক দিন ছাড়া সেটি দিয়ে ফেরি চলাচল করে না। আবার কাশীপুর ফেরিঘাটে স্মার্ট গেট ব্যবহারই হয় না। রাজ্যের এরকম বহু ফেরিঘাটের এমনই হাল। পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বৈঠকে গঙ্গা লাগোয়া ১১টি পুরসভার চেয়ারম্যান, ডব্লুবিটিসি’র এমডি, হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের সিইও, হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের অ্যাডমিনিস্ট্রেটরকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে পরিবহণ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ছিলেন। বৈঠকে তথ্য পেশ করে দেখানো হয়, নতুন ফেরিঘাট ও স্মার্ট গেট বসেছে এমন ঘাটের সংখ্যা প্রায় ৪৪। তার মধ্যে ৩৩টি চালু। ১১টি জায়গায় তা চালু করা হয়নি। এই নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলির বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে সকলেই দ্রুত পরিষেবা চালুর কথা বলেন। পরিবহণ দপ্তর উদ্বোধন হওয়ার পরও পড়ে থাকা ফেরিঘাট দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেয়। বৈঠকে ছিলেন পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে। তিনি বলেন, পানিহাটি ফেরিগাট গঙ্গার উল্টোদিকে থাকা হুগলির কোন্নগর পুরসভা পরিচালনা করে। বৈঠকে পরিবহণ দপ্তর স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে ওই নতুন উদ্বোধন হওয়া ফেরিঘাট অবিলম্বে চালু করতে হবে। একই তৎপরতার সঙ্গে চালু করতে হবে স্মার্ট গেট। তা না হলে ওই গেট খুলে নিয়ে গিয়ে যেখানে প্রয়োজন সেখানে স্থানান্তর করা
হবে। ফাইল চিত্র