নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: এ বছরের পুজোটা জল-যন্ত্রণা নিয়ে কাটলেও আগামী বছর আর এমন পরিস্থিতি হবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাসে এখন এই আশাতেই বুক বাঁধছেন মালদহের মানিকচকের ভূতনির বাসিন্দারা।
গত ৮ অক্টোবর মানিকচকে এসে প্রশাসনের কর্তাদের মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বছর যেন ভূতনির মানুষকে বন্যার জলে ডুবতে না হয়, তার জন্য যেটা দরকার, সেটাই করতে হবে। সেইসঙ্গে ভূতনির মানুষকে ফি বছর বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ভূতনির বাঁধ ভাঙার সমস্যার যেমন স্থায়ী সমাধান করতে হবে, তেমনই সেখানকার নীচু এলাকা থেকে মানুষজনকে উঁচু জায়গায় তুলে আনতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো মালদহ জেলা প্রশাসন জমির খোঁজ শুরু করেছে। মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, দক্ষিণ চণ্ডীপুরে ১২ একর ও মানিকচকের নূরপুর পঞ্চায়েতের লালবাথানিতে ইতিমধ্যেই জমি দেখা হয়েছে। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে মডেল ভিলেজ গড়ে দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে ভূতনির নীচু এলাকা থেকে ৯১৫ জনকে সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দেবজ্যোতি সিনহা বলেন, ভূতনির নীচু এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসন নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। অবিলম্বে এ ব্যাপারে প্রশাসন উদ্যোগ না নিলে আমরা ভূতনির মানুষকে নিয়ে গিয়ে খাসজমিতে বসানোর ব্যবস্থা করব।
এদিকে, মালদহ সফরে এসে মানিকচকের ভূতনি সহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মালদহের পাঁচটি ব্লকের ২৪ হাজার ৫৯৫টি পরিবারকে বাড়ি নির্মাণে টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অনেকের হাতে চেক তুলে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাকি কারা ওই টাকা পাচ্ছেন, পঞ্চায়েত অফিসে তাঁদের নামের তালিকা এখনও টাঙানো হয়নি। আর এতেই স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে। সিপিএমের দাবি, বিজেপি নেতারা নিজেদের পছন্দের লোকজনকে ওই ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কোথাও কোথাও সরকারি ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার নামে বেনিফিশিয়ারিদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। আবার ভূতনির কালুটোনটোলা এলাকায় এখনও বাঁধের উপরে রয়েছেন, এমন বেশকিছু মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি নির্মাণে সরকারি ক্ষতিপূরণ পাননি বলে দাবি সিপিএম নেতা দেবজ্যোতির।
মানিকচকের বিজেপি বিধায়কের অবশ্য বক্তব্য, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই বাড়ি তৈরির জন্য টাকা পাবেন। এখনও পর্যন্ত চারশো জনের টাকা ছাড়া হয়েছে। ডিবিটি লিংকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে।
গত ৮ অক্টোবর মানিকচক কলেজ মাঠে প্রশাসনিক বৈঠকে ভিডিয়ো কনফারেন্সে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে স্পষ্টভাবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, এমনভাবে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে যাতে গঙ্গার জল উপচে যেতে পারে। কিন্তু কোনোভাবেই যেন বাঁধ না ভাঙে। পরপর তিন বছর কেন ভূতনিতে বাঁধ ভাঙল, তা নিয়ে সেচদপ্তরের আধিকারিকদের কাছে রীতিমতো কৈফিয়ত তলব করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেচদপ্তর কি ভূতনিতে বাঁধ ভাঙতে যায় নাকি বাঁধ দিতে যায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই কড়া মনোভাবে ভূতনির মানুষের আশা, এবার হয়তো শক্তপোক্ত বাঁধ তৈরি হবে। আগামী বর্ষায় আর তাঁদের বানভাসি হতে হবে না।



