নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত দু’বছর ধরে লাগাতার ধর্ষণ! প্রথমে রুবি মোড়ের অভিজাত হোটেল, পরে মন্দারমণি সহ বিভিন্ন জায়গায় যৌন হেনস্তার শিকার শহরেরই এক মডেল। অভিনয়ের সুযোগ করিয়ে টোপ দিয়ে গত ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে লাগাতার নির্যাতনের অভিযোগ তুললেন তিনি। অভিযোগের তির টলি জগতের এক প্রযোজক ও পরিচালকের দিকে। তাঁদের নাম রাজর্ষি দে এবং এসএস উদ্দিন ওরফে রিন্টো। সোমবার কসবা থানায় দু’জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন নির্যাতিতা মডেল। যদিও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। লাগাতার ধর্ষণের শিকার হলেও পুলিসের দ্বারস্থ হতে কেন দু’বছর সময় নিলেন ওই তরুণী? এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
অভিযোগকারিণী বছর তিনেক ধরে মডেলিং করছেন। ছোটোখাটো বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। সেই সূত্রেই পরিচালক রাজর্ষির সঙ্গে আলাপ হয় তরুণী। মোবাইল নম্বর আদানপ্রদান হয়। অভিযোগ, ২০২৩ সালে অভিনয়ের কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে রুবি মোড়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ডাকা হয় তরুণীকে। সেখানে যান ওই মডেল। তাঁর দাবি, সেখানেই রাজর্ষি তাঁকে হোটেলের একটি ঘরে নিয়ে যায়। রাজর্ষি বলেন, প্রযোজক রিন্টো আসবেন। তিনিই মডেলকে কাজের সুযোগ করে দেবেন। অভিযোগকারিণী পুলিসকে জানিয়েছেন, রিন্টো আসার পর ওই হোটেল ঘরেই যৌন নির্যাতন করে প্রযোজক ও পরিচালক। শুধু তাই নয়, ওই প্রযোজক তাঁকে ধর্ষণ করেন। এরপরে ভয় দেখানো হয় তরুণীকে। হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘পুলিসের কাছে গেলে প্রভাব খাটিয়ে ক্ষতি করে দেব’। নির্যাতিতার দাবি, ধর্ষণের কথা ইন্ডাস্ট্রিতে সবাইকে রটিয়ে দেওয়া হবে, এই বলে তাঁকে ফের মন্দারমণির একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও প্রযোজক তাঁকে ফের ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এখানেই তদন্তকারীদের প্রশ্ন, প্রথমবার ধর্ষণ হওয়ার পরও কেন ফের মন্দারমণি গেলেন ওই মডেল। তখনই তো পুলিসের কাছে অভিযোগ করতে পারতেন তিনি! অভিযোগে বিলম্ব কেন? কলকাতা পুলিসের এক সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্নের জবাবে তরুণীর বক্তব্য, বারবার ব্ল্যাকমেল করা হতো তাঁকে। সেই ভয়েই পুলিসকে আগে কিছু বলতে পারেননি তিনি। সম্প্রতি ফের হোটেলে যাওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতা। অবশেষে সোমবার রাতে কসবা থানায় অভিযোগ করেন তিনি। তার ভিত্তিতে ধর্ষণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিস। এ প্রসঙ্গে, পরিচালক রাজর্ষি দে’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। পুলিসের তরফেও আমার কাছে কোনও নোটিস বা ফোন আসেনি। তাই আমার কোনও প্রতিক্রিয়া নেই।’ বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি প্রযোজক রিন্টোর সঙ্গে। অন্যদিকে, এদিন আলিপুর আদালতে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি ও মেডিকো লিগ্যাল পরীক্ষার জন্য আবেদন জানান সরকারি আইনজীবী। বিচারক সেই আর্জি মঞ্জুর করেছেন।