Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

পাক সীমান্তজুড়ে ৪ রাজ্যে আজ মক ড্রিলের নির্দেশ, ফের অপারেশন সিন্দুরের প্রস্তুতি?

পাক সীমান্তজুড়ে ৪ রাজ্যে আজ মক ড্রিলের নির্দেশ, ফের অপারেশন সিন্দুরের প্রস্তুতি?
  • ২৯ মে, ২০২৫ ১৪:০৫
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ‘অপারেশন সিন্দুর’ শেষ হয়নি। কারণ, পাকিস্তানকে বিশ্বাস করা যায় না। ‘অপারেশন সিন্দুর’ শেষ হয়নি। কারণ, সংঘর্ষ বিরতির পরও পাকিস্তান ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। একদিকে লাগাতার হুমকি, অন্যদিকে জঙ্গিবাহিনীকে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করা। ‘অপারেশন সিন্দুর’ শেষ হয়নি। কারণ, নতুন করে নাশকতার হুঁশিয়ারি দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে জয়েশ-ই-মহম্মদের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠন! বসে নেই ভারত। অধিকৃত কাশ্মীর ও পাক পাঞ্জাবের একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করার পর আত্মতুষ্টও নয়। উল্টে প্রস্তুত। পুরোদস্তুর। যদি প্রয়োজন হয়, যে কোনও মুহূর্তে আবার প্রত্যাঘাত হবে। আর সেই কারণে প্রস্তুত থাকতে হবে দেশবাসীকেও। বিশেষ করে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী রাজ্যের বাসিন্দাদের। আজ, বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান, পাঞ্জাব এবং গুজরাতে পুরোদমে মহড়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাকিস্তানি সেনা হোক, কিংবা জঙ্গি— হামলা হলে কীভাবে তার মোকাবিলা করতে হবে, কীভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হবে এবং কীভাবেই বা ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার করা হবে, তার সবটাই এই মক ড্রিলে থাকবে। পাঞ্জাব সরকার অবশ্য জানিয়েছে, তাদের মহড়া ৩ জুন হবে। গুজরাত ও রাজস্থানও জানিয়েছে, তাদের মক ড্রিলের তারিখ ঘোষণা করবে। এরপরও একটা বিষয় স্পষ্ট, কেন্দ্র-রাজ্য কোনও পক্ষই আর পরিস্থিতির গুরুত্ব উড়িয়ে দিচ্ছে না। আর সীমান্তের এই চাপানউতোরে ইন্ধন দিয়েছে জয়েশের হুমকি।

Advertisement

মাসুদ আজহারের জঙ্গি সংগঠনের একটি ডিজিটাল ম্যাগাজিন আছে। নাম, ‘মেদিনা, মেদিনা’। সম্প্রতি তাতে পুনঃপ্রচার করা হচ্ছে জয়েশ নেতাদের পুরনো ভিডিও এবং ভাষণ। এমনকী ৭ মে ভারতের প্রত্যাঘাতে নিহত জঙ্গি ও তাদের পরিবারের শেষকৃত্যের দৃশ্যও প্রকাশ করা হয়েছে ওই ম্যাগাজিনে। লক্ষ্য একটাই— উস্কানি। ভারতের আঘাতে বাহওয়ালপুরে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল জয়েশের সেমিনার কমপ্লেক্স। মাসুদ আজহার প্রাণে বাঁচলেও তার পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল তাতে। সেই ক্ষোভ হজম করতে পারছে না জয়েশ। মাসুদের এক ভাই আবদুল রউফ আসগরের হুমকি ভিডিও ফিরিয়ে আনা হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমে। তাকে বলতে দেখা যাচ্ছে, ‘আমরা নির্দোষদের হত্যা করি না। শহরের জনবহুল এলাকাতেও হামলা চালাই না। কিন্তু মোদি শুনে রাখুন, আপনাদের এই আক্রমণ বন্ধ না হলে জয়েশের আত্মঘাতী বাহিনী ভারতের রাস্তায় রাস্তায় হানা দেবে। রক্তের নদী বইয়ে দেবে। একজন মুসলিমের বদলে ১০ জন হিন্দুর প্রাণ নেব আমরা।’ এই হুমকির পর প্রশাসনের উপরমহল থেকে একটি প্রশ্নই তোলা হচ্ছে, পাকিস্তান সরকারের সম্পূর্ণ সমর্থন না থাকলে একটা জঙ্গি সংগঠন প্রকাশ্যে এই প্রচার চালিয়ে যেতে পারে না। পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় বাড়তে থাকা জঙ্গিরা ভুলে গিয়েছে, পহেলগাঁওতে বেছে বেছে যাঁদের ওরা খুন করেছিল, তাঁরা প্রত্যেকে নির্দোষ-নিষ্পাপই ছিলেন। পাক সরকার সন্ত্রাসের মদতদাতা বলেই মাসুদ আজহারের সবচেয়ে ছোট ভাই তালহা আল-সইফ আলভি প্রশাসনকে সরাসরি বলতে পারে, ‘ফুল স্কেল আত্মঘাতী হামলা করব। আটকাবেন না।’ জয়েশের তরফ থেকে ডোনেশন চাওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘ভারতে জেহাদি হানায় শহিদ হলে জন্নত পাওয়া যায়।’ এবং সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে আরএসএসের নামেও। 
পহেলগাঁওতে ধর্ম জিজ্ঞেস করে পাক জঙ্গিরা খুন করেছিল সাধারণ ভারতীয়দের। ভারত কিন্তু ধর্ম দেখেনি। সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা, নৌবাহিনী... প্রত্যাঘাত করেছিল শুধুমাত্র সন্ত্রাসের আঁতুড়ে। তারপরও শিক্ষা হয়নি পাকিস্তানের। আর তাই সতর্ক ভারত। প্রস্তুতও। সীমান্তে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি। রাফাল-সুখোই ইতিমধ্যেই লোডেড। রাশিয়ায় প্রস্তুত ৩ হাজার ৯০০ টনের ফ্রিগেট ‘আইএনএস তমাল’ আসছে নৌবাহিনীর ভাণ্ডারে। প্রতি পদক্ষেপে ভারত বুঝিয়ে দিচ্ছে, জঙ্গিদেশ পাকিস্তানের হুমকি আর সহ্য করা হবে না। ভারতবাসী একদিকে প্রস্তুত থাকবে নিজেদের রক্ষায়। পোশাকি নাম, ‘অপারেশন শিল্ড’। আর অন্যদিকে কি তাহলে ফের প্রত্যাঘাত! ‘অপারেশন সিন্দুর’, দ্বিতীয় পর্ব?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ