নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ‘ফের রেল দুর্ঘটনা! আবার মৃত্যু মিছিল!’ বৃহস্পতিবার বিকেলে সোদপুর স্টেশনে হাড়হিম ঘটনা। ফের আতঙ্ক।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ‘ফের রেল দুর্ঘটনা! আবার মৃত্যু মিছিল!’ বৃহস্পতিবার বিকেলে সোদপুর স্টেশনে হাড়হিম ঘটনা। ফের আতঙ্ক।
স্টেশনের সামান্য দূরে লাইনচ্যুত শিয়ালদহ লালগোলা প্যাসেঞ্জার। দু’টি বগি লাইনচ্যুত। চার যাত্রী মৃত। গুরুতর জখম ১২। হুটার বাজিয়ে ছুটে আসছে অ্যাম্বুলেন্স। উদ্ধারকাজ শুরু করেছে রেল-রাজ্য পুলিস, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, চিকিৎসক দল। দুর্ঘটনাগ্রস্ত কামরা থেকে বের করে আনা হচ্ছে নিথর দেহ। সোদপুর সাইডিং বাজারে এ ছবি দেখে যুগপৎ আতঙ্কিত ও হতচকিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত কামরার দিকে একটু এগল ভিড়। সামনে গিয়ে মৃতদেহগুলি দেখে গেল আরও হকচকিয়ে। সেগুলি দেখতে যেন অবিকল মানুষ। কিন্তু মানুষ তো নয়। এ তো পুতুল! এবার রহস্যের বদলে কৌতূহল। কিছুক্ষণের মধ্যে বিষয়টি অবশ্য খোলসা করল রেল। জানাল, ‘দুর্ঘটনাটি সাজানো। নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরখ করতে মক ড্রিল চলছে।’ এরপর ফিরল স্বস্তি। এতদিন বিমানবন্দরে মক ড্রিল হওয়ার খবর কাগজে পড়েছে মানুষ। এবার সোদপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার উত্তেজনাপূর্ণ মহড়ার ছবি চোখে দেখল।
দুপুর সাড়ে তিনটে থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত চলেছে ড্রিল। স্টেশনের পাশে রেলওয়ে সাইডিং বাজার। রেলের বিস্তৃত জমি। লাইনের পাশে প্রতিদিন সকালে বড় বাজার বসে। বহু মানুষ যাতায়াত করেন। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ সে ব্যস্ত জায়গা একটু ফাঁকা ফাঁকা। হঠাৎ হুলস্থুল কাণ্ড। স্থানীয়রা দেখতে পেলেন এক্সপ্রেস ট্রেনের দু’টি কামরা উল্টে গিয়েছে। সাইরেন বাজিয়ে রাস্তা দিয়ে দৌড়ে আসছে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স। রেল, আরপিএফ, এনডিআরএফের গাড়ি পরপর ঢুকছে। মেডিক্যাল সরঞ্জাম নিয়ে আসছে রেলের মেডিক্যাল ভ্যান ও রিলিফ ট্রেন। রেল ঘোষণাও করল, ‘০০১১৩ শিয়ালদহ লালগোলা প্যাসেঞ্জার সোদপুর স্টেশন থেকে বের হওয়ার সময় লাইনচ্যুত হয়েছে। দু’টি জেনারেল বগি উল্টে চার জনের মৃত্যু। ১২ যাত্রী গুরুতর জখম। ১৮ যাত্রীর অল্পবিস্তর চোট লেগেছে।’ উদ্ধারকাজ শুরু করে দিয়েছেন রেল ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা। বগি কেটে বের করা হচ্ছে মৃত ও জখম যাত্রীদের। ১৪০ টন ওজন তুলতে সক্ষম বিশাল আকৃতির ক্রেন দিয়ে বগি সরানোর তোড়জোড় চলছে। জখম যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে ঘটনাস্থলে। এসব দেখে হাত-পা ঠান্ডা উপস্থিত সবার। এরপর সময় কিছুক্ষণ গড়ায়। পায়ে পায়ে ট্রেনের কাছে আসেন স্থানীয়রা। এবং সংশয় দূর হয়। মৃত ও জখম যাত্রীরা যে পুতুল তার প্রমাণ মেলে। এরই মধ্যে রেল জানায়, লাইনচ্যুত বগি থেকে ৩০ পুতুল প্যাসেঞ্জারকে উদ্ধার করে শিয়ালদহ রেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে। এরপর আতঙ্কের আবহ কাটে। স্বস্তি ফেরে পরিবেশে। হাঁফ ছাড়ে মানুষ।
শিয়ালদহ ডিভিশনের রেলওয়ে আধিকারিকরা ছাড়াও ৩৮ এনডিআরএফ জওয়ান, শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিজাস্টার রেসকিউ টিম, সিভিল ডিফেন্সের দল, আট চিকিৎসক, ২০ প্যারামেডিক্যাল কর্মী, ৫৩ আরপিএফ জওয়ান সহ একাধিক রেলকর্মী মহড়ায় অংশ নিয়েছিলেন। শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা বলেন, ‘আচমকা দুর্ঘটনার মোকাবিলার জন্য সোদপুরে মহড়া হয়। জখম যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো সহ সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার কাজ হয়েছে।’