বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: প্রতিশ্রুতি? দেশের গ্রামীণ এলাকায় টেলিকম পরিষেবার উন্নয়ন। সেই জন্য টেলিকম সংস্থাগুলির থেকে প্রতি বছর মোটা টাকা আদায় করে মোদি সরকার। সঙ্গে লাইসেন্স ফি। কিন্তু মোবাইল সংস্থাগুলির থেকে আদায় করা এই টাকা কতটা খরচ হয়? তথ্য বলছে, স্রেফ ফেলে রাখা অর্থের অঙ্কটাই প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা! অর্থাৎ, গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট পরিষেবা উন্নয়ন খাতে যে টাকাটা সংস্থাগুলির থেকে আদায় করা হয়, তা সেই অর্থে খরচই হয় না। কিন্তু মাশুল গুনতে হয় কাকে? কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহক। কারণ, সংস্থাগুলি নিজের পকেট থেকে তো আর এই বিপুল অর্থ ‘খয়রাতি’ করবে না। তাই এবার মোদি সরকারের কাছে তাদের আর্জি, যতক্ষণ না ওই ‘ফেলে রাখা’ টাকা খরচ হচ্ছে, অর্থ আদায় বন্ধ হোক। যদি সরকার তা না করে? নতুন করে ‘ট্যারিফ-বোঝা’ চাপবে আম জনতার উপর।
ইতিমধ্যেই লাভের অঙ্ক বাড়াতে গ্রাহকদের উপর আর্থিক বোঝা চাপিয়েছে টেলিকম সংস্থাগুলি। ২০২৪ সালে প্রিপেড এবং পোস্টপেড গ্রাহকদের মোবাইল খরচ বেড়েছিল ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, চলতি ২০২৬ সালে নতুন করে ট্যারিফ বাড়বে। শিল্প উপদেষ্টা সংস্থা মর্গ্যান স্ট্যানলি দাবি করেছে, এবছর দেশবাসীর ঘাড়ে আরও ২০ শতাংশ মোবাইল খরচ চাপতে পারে। এই অঙ্ক দুয়ে-দুয়ে চার হয়ে যাচ্ছে খরচের ভার লাঘবের জন্য মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির আর্জিতে। এমনিতেই প্রতিটি টেলিকম সংস্থাকে তার আয় থেকে (অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউ) আট শতাংশ কেন্দ্রের কাছে জমা করতে হয় লাইসেন্স ফি বাবদ। এর মধ্যে পাঁচ শতাংশ জমা পড়ে ‘ডিজিটাল ভারতনিধি’ নামক একটি তহবিলে। এর থেকেই কেন্দ্র গ্রামাঞ্চল ও প্রান্তিক এলাকায় টেলিকম পরিকাঠামোর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে। এমনকি, কেন্দ্রের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘ভারত নেট’ও চলে এই ফান্ডের টাকায়। ২০০২-০৩ অর্থবর্ষে এই তহবিলটি গঠিত হয়েছিল। তখন নাম ছিল ইউনিভার্সাল সার্ভিস ডিজিটাল ফান্ড। মোদি সরকার তার নাম বদলেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিগত প্রায় ২৫ বছর ধরে এই ফান্ডে জমা হয়েছে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুমোদিত হয়েছে প্রায় ৯২ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। এখনও সরকারের কাছে পড়ে রয়েছে প্রায় ৯৪ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। উপরন্তু বরাদ্দ টাকার সবটা খরচ হয়েছে, এমনও নয়। উদাহরণ, পশ্চিমবঙ্গ। মোবাইল পরিষেবা খাতে ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত দেশজুড়ে খরচ হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। বাংলার কপালে ওই পাঁচ বছরে জুটেছে মাত্র ৭৮ কোটি টাকা।
আর মোবাইল সংস্থাগুলি কী করছে? তাদের লাভের অংশ থেকে কেন্দ্রের তহবিলে যে টাকা যাচ্ছে, তা তুলে নিচ্ছে সাধারণ গ্রাহকের থেকে। কেন্দ্র যদি লাইসেন্স ফি না কমায়, তাহলে নতুন বোঝা নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে কাঁধ আরও চওড়া করতেই হবে।